নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ বাহিনী ও সামেদ আলী বাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বক্তাবলী ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত ইটভাটাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নীরব চাঁদাবাজি ও কমিশন বাণিজ্য চলে আসছে। বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের আমলে এসব ইটভাটার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীর হাতে।
গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদ ওই ইটভাটাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। সম্প্রতি সামেদ আলী এলাকায় ফিরে এসে এসব ভাটার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই জেরে শনিবার সকালে বক্তাবলী খেয়াঘাটে খিচুড়ি রান্না করে দলবল নিয়ে খাওয়া-দাওয়া শেষে সামেদ আলীর এলাকা আকবর নগরে মহড়া দিতে যান হালিম আজাদ। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং এক পক্ষ আরেক পক্ষের ওপর হামলা চালায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সামেদ আলীর ছোট ছেলে হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ হৃদয় জানান, আমি বাসা থেকে বের হয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। এ সময় বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং হালিম আজাদ তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে আমাকে গুলি করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ইটভাটায় চাঁদাবাজি, মাটি ও শ্রমিক সরবরাহকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি লাভজনক কমিশন বাণিজ্য চলে আসছে। মাটি কাটা থেকে শুরু করে শ্রমিক সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে কমিশন নিয়ন্ত্রণ করাকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় বক্তাবলী বাজারে জেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে এই হালিম আজাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামিম হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।