প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষা বড় কোনো চাকরির পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মতে, একই দিনে বা কাছাকাছি সময়ে একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হলে দূরদূরান্ত থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের খরচ ও ভোগান্তি কমবে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদকের সঙ্গে। তাদের দাবি, আগামী ৩০ অক্টোবর সকালে সিনিয়র অফিসার পদের একটি নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে। ওই দিন বিকেলে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হলে তাঁদের বারবার ঢাকায় আসতে হতো না। এতে সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হতো বলে জানিয়েছেন তারা।
চাকরিপ্রার্থীদের মতে, নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য, যাতায়াতের দূরত্ব এবং একই সময়ে অন্য নিয়োগ পরীক্ষার সূচিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এতে দূরবর্তী জেলার প্রার্থীদের অতিরিক্ত ব্যয় কমার পাশাপাশি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এ বিষয়ে আবু নাইম নামের এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ তামাশা করছে। আগামী ১৬ অক্টোবর যুব উন্নয়নের পরীক্ষার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ আগামী ৩০ অক্টোবর সকালে সিনিয়র অফিসার পদের পরীক্ষা রয়েছে। ওই দিন বিকেলে যুব উন্নয়নের পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের বারবার ঢাকায় আসার আর্থিক ভোগান্তি কমত। আমি মনে করি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’
রাজশাহীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি চাকরিপ্রার্থী রায়হান ইসলামের। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়ায় প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। আমরা জানতে পেরেছি, যুব উন্নয়নের পরীক্ষা আবারও ১৬ অক্টোবর নেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের উচিত, বড় কোনো চাকরির পরীক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে এ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা। এতে আমাদের যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি কমবে।’
আরেক চাকরিপ্রার্থী আসিফ আহমেদ দিগন্ত বলেন, ‘সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করা একজন চাকরিপ্রার্থী বেকার অবস্থায় থাকে। নিজের খরচ চালিয়ে, চাকরির প্রস্তুতি নিতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় বারবার ঢাকা এসে পরীক্ষা দেওয়াটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আমরা আশা করবো, সরকার আমাদের বিষয়টা বিবেচনায় নিয়ে অন্য একটা পরীক্ষার দিনের সঙ্গে সময় মিল রেখে যেন এই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেন।
এর আগে আজ (১০ অক্টোবর) শনিবার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। ওই দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।
পরে পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। অধিদপ্তর ১৬ অক্টোবর বিকেল ৩টায় পরীক্ষাটি আয়োজনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে।