Image description

রাজধানীর শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার পাঁচ মাস অতিক্রম করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। কিন্ত পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি তদন্ত প্রতিবেদন।
‎
‎গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার ভেতরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ সদস্য। ঘটনার পর শাহবাগ থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি বলে জানায় হামলার শিকার সাংবাদিকরা। পরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
‎
‎ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির বাকী সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া,  ড. মো. মোসাদ্দেক খান , ড. রফিকুল ইসলাম , রেজাউল করিম সোহাগ ও আমজাদ হোসেন। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও এখনো সেই তদন্তের প্রতিবেদন জমা পড়েনি। ফলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়া যেমন থমকে আছে তেমনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রশাসনের বিচার ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
‎
‎এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি বলেন, গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাঁচ মাসের বেশি সময়েও না আসায় এবং কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
‎
‎প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পর যে মুক্ত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা সকলের মধ্যে তৈরি হচ্ছে, প্রশাসন পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার না করে সেই প্রত্যাশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এমন বার্তা শিক্ষার্থী ও দেশবাসীর কাছে যাচ্ছে। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই ঘটনার বিচার করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
‎
‎এদিকে তদন্তে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সার বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, দেরি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, এটি নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। আমরা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দ্রুতই এটি দিয়ে দেওয়া হবে।
‎
‎​তদন্তে বেশি সময় লাগার কারণ হিসেবে তিনি নতুন একটি অভিযোগ যুক্ত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসা চার-পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে একটি অভিযোগ শুরুতে আমরা বিবেচনায় নিইনি। এখন সেটিও বিবেচনায় আনতে হচ্ছে। 
‎
‎৫ মাস অতিক্রম হয়ে গেলেও ​প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনই বলতে পারছি না। আগামী এক মাসের মধ্যে হবে কিনা এ বিষয়েও তিনি নিশ্চয়তা দেন নি। তবে তিনি বরাবরের মতোই আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
‎
‎তদন্তে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন বলেন, তাড়াহুড়ো করে প্রতিবেদন জমা দিতে গিয়ে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যুক্ত না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখছি। আমরা চাই না আইনের ফাঁক দিয়ে কেউ পার পেয়ে যাক, আবার নিরপরাধ কেউ সাজা পাক। তবে আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।