স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন সমীকরণ করছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। বিদ্রোহীদের নিরুৎসাহিত করে একক প্রার্থী মনোনীত করাই এখন দলের মূল চ্যালেঞ্জ। প্রার্থী বাছাইয়ে কেন্দ্রের নজর এখন সততা এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা। একইসঙ্গে দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক ভূমিকা, আন্দোলন ও সংগ্রামে ভূমিকা- সবকিছুই বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। দলীয় প্রতীক না থাকায় একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিএনপি। কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গ্রুপিং এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলও নতুন করে সামনে আসছে। ফলে নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূলে যেমন উৎসাহ বাড়ছে, তেমনি প্রার্থী বাছাই নিয়েও নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। ওদিকে প্রার্থী বাছাইয়ে কেন্দ্র কীভাবে তৃণমূলের মতামত নেবে, কারা প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিরোধ কীভাবে সমাধান করবে- এসব প্রশ্নও সামনে আসছে। শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, থানা, পৌরসভা, জেলা কমিটি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিম স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে জানা গেছে।
বিএনপি’র সিনিয়র এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে মানবজমিনের। তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার চ্যালেঞ্জ আলোচনা রয়েছে। যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে ভূমিকা পালন করেছেন। তারা সবাই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। এক্ষেত্রে জনগণের কাছে যার জনপ্রিয়তা বেশি, তাকেই দল চূড়ান্ত সমর্থন দেবে। সবার চাওয়া-পাওয়া থাকবে, বিএনপি’র মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলের এটা আরও বেশি থাকবে। দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং কমিয়ে দলের আদর্শে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন- এ প্রক্রিয়ায় কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতি সপ্তাহে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জেলা, উপজেলা এবং থানাসহ তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দল একজনকে সমর্থন দেবে। সেখানে শৃঙ্খলা ভেঙে যাতে একাধিক প্রার্থী না হয়- বৈঠকে সে ব্যাপারে কড়া বার্তা দিচ্ছেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান। এদিকে, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ভার্চ্যুয়ালি জুম মিটিং করেছেন।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে ইউপি নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে। একজন ব্যক্তির বাইরে যাতে দলের আর কেউ প্রার্থী না হয়, সে ব্যাপারে সামগ্রিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে যেসব দলীয় নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়, এর মধ্যে থেকে কয়েকজন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটা নির্ভর করবে তাদের কাজের ওপর। যারা ভালো কাজ করবেন তাদের দল মূল্যায়ন করবে। ওদিকে, দায়িত্বে থাকা প্রশাসকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এমন ইঙ্গিতও মিলেছে নির্বাচন কমিশনের তরফে।
ওদিকে, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি’র তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সরব। সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেছেন। নিজ এলাকায় বিভিন্ন উপলক্ষকে কেন্দ্র করে পোস্টার, ফেস্টুন এবং ব্যানার টানাচ্ছেন তারা। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও ব্যবহার করছেন তারা। অন্যদিকে, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও নীতিনির্ধারকদের ভাবাচ্ছে। এজন্য দলের স্বার্থে কোন্দল ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত মানবজমিনকে বলেন, যারা দলের পরীক্ষিত, যারা ত্যাগ শিকার করেছেন এবং শিক্ষিত নেতাদের মধ্যে থেকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সততা এবং জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতাকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হবে।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম মানবজমিনকে বলেন, আমাদের একাধিক প্রার্থী আছেন। তাদের মধ্যে যাদের জনপ্রিয়তা বেশি, দীর্ঘ ১৭ বছর ত্যাগ ও তিতিক্ষা শিকার করেছে এবং মাঠে ছিলেন- তাদের মধ্যে থেকে আমরা একক প্রার্থী দেবো।