Image description

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতার প্রশ্নে হাইকোর্টে করা রিট আবেদনটি খারিজ হয়ে গেছে। ফলে দলটির সক্রিয় হয়ে ওঠার আইনি পথ খুলল না।   

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের আদেশ দেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার আমলে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিট আবেদনটি করা হয়।

আল আমিন নামে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক বাসিন্দা আবেদনটি করেছিলেন। তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূস আলী গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি দাখিল করেন বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী জানান।

এ আবেদনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞা আরোপের বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পর কয়েক মাসের মধ্যে দলটির সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।

জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় তরুণদের দাবির মুখে পরের বছর ২০২৫ সালের ১২ মে মাসে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সব সংগঠনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।

তাতে বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

এই প্রজ্ঞাপনের কারণে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন না। মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে তারা ঝটিকা মিছিল বের করলেও পুলিশের প্রতিরোধের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার মধ্যে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি হয়েছিল, যা এখন খারিজ হয়ে গেল।