Image description

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সময় আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের একটি গ্রুপকে সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন। তার সঙ্গে এমনই একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের 
নেতৃত্ব। এর মধ্যে থাকতে পারেন কিছু দেশের কূটনীতিক। এসব কূটনীতিক এর আগে বাংলাদেশে দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব নিয়ে এরই মধ্যে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন একজন কূটনীতিক ও একজন রাজনীতিক। খুব শিগগিরই তার সঙ্গে আরও কিছু কূটনীতিকের সাক্ষাৎ হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য নিউ দিল্লি পোস্ট। এতে সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী লিখেছেন, এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ।

তিনি ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ছিলেন। সাক্ষাতে তারা হাসিনার সঙ্গে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা করেন। হাসিনার সঙ্গে কূটনীতিকদের একটি গ্রুপকে নেয়ার ধারণাটা পিটার ফারেনহোল্টজ নিজে তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত সক্ষমতায় সার্ভিস দিতে পারেন। তার এই উদ্যোগের সঙ্গে জার্মান সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের আরেক সদস্য ড. ওনড্রিয়েজ দোসটেইল। এটাই শেখ হাসিনার সঙ্গে ইউরোপিয়ান কূটনীতিকদের প্রথম সাক্ষাৎ। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে তারা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

পিটার ফারেনহোল্টজের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বাংলাদেশ সরকারের উচিত সবার অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সমাজ, যাতে সব বৈধ রাজনৈতিক দল জাতি গঠনে তার ভূমিকা পালন করতে পারে। এ সময় তিনি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কঠোর বিরোধিতা করেন। মনে করেন আওয়ামী লীগের বিষয়ে পশ্চিমা দুনিয়া এখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলছে। বাংলাদেশে সবার অংশগ্রহণমূলক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তিনি নিশ্চিত যে, যখন বাংলাদেশ ইস্যুতে ইউরোপ তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে তখন যুক্তরাষ্ট্রও ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব ইস্যুতে তা বিবেচনা করতে পারে। জার্মানিতে সুপরিচিত ও সম্মানিত পিটার ফারেনহোল্টজ।

এক সময় তিনি ২০০৬ সাল পর্যন্ত মুম্বইয়ে কন্স্যুলেটে দায়িত্ব পালন করেন। জার্মান প্রেসিডেন্ট তাকে ‘অর্ডার অব মেরিট’ পুরস্কারে ভূষিত করে। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে গ্রামীণ ব্যাংককে কার্যকর করার জন্য ব্যাপক ও ব্যক্তিগত সফর করেছেন। ওই রিপোর্টে বলা হয়, খুব শিগগিরই অন্য বিদেশি উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা।