Image description

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রচারিত একটি ভিডিওতে এমন বক্তব্য দিতে শোনা যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জামায়াতপন্থী আইনজীবী আল মামুন রাসেলকে। আইনজীবী রাসেলকে নিয়মিত বিভিন্ন টকশোতে জামায়াতের হয়ে কথা বলতে দেখা যায়।

‘‘টিকটক যিনি তৈরি করছেন, চাইনিজ ঝাং ইয়ামিং, আমার যাওয়ার সুযোগ হইছে তার অফিসে, বেইজিং, চায়নায়। ঝাং ইয়ামিং বলছেন, ‘TikTok was created only for unstable and jobless people.’ কয়, আমি টিকটক তৈরি করছি যাদের কাজকাম নাই বাদাইম্মা, তাদের জন্য। আর আমাদের বাংলাদেশের বেশিরভাগ টিকটক সেলিব্রিটি, ওয়াও।’’

 

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রচারিত একটি ভিডিওতে এমন বক্তব্য দিতে শোনা যায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জামায়াতপন্থী আইনজীবী আল মামুন রাসেলকে। আইনজীবী রাসেলকে নিয়মিত বিভিন্ন টকশোতে জামায়াতের হয়ে কথা বলতেও দেখা যায়।

 

২৯ আগস্ট ২০২৬, ছাত্রশিবির কক্সবাজার জেলা শাখার A+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি ঝাং ইয়ামিংয়ের নামে ওই মন্তব্য করেন। এর আগেও তিনি একটি অনুষ্ঠানে একই মন্তব্য করেছেন।

 

তবে বেঙ্গল লেন্সের যাচাইয়ে দেখা যায়, টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা ঝাং ইয়ামিংয়ের নামে প্রচারিত এই বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই। বরং এই দাবিকে ভুয়া উল্লেখ করে এর আগে একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

 

যেভাবে ছড়ায় এই দাবি

‘টিকটক কেবল মানসিকভাবে অস্থির ও বেকার লোকদের জন্য তৈরি করা এবং এই ধরনের মানুষের সংখ্যা ভারতে সবচেয়ে বেশি’— শীর্ষক মন্তব্যটি ২০১৯ সাল থেকে ঝাং ইয়ামিংয়ের নামে ইন্টারনেটে প্রচার হয়ে আসছে।

 

রিউমর স্ক্যানারের ১৮ জুন ২০২৩ এর একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝাং ইয়ামিং এমন কোনো মন্তব্য করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

 

রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এবং ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতীয়দের মধ্যে টিকটক নিয়ে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। পরবর্তীতে ভারত সরকার দেশটিতে টিকটক নিষিদ্ধ করে। এই প্রেক্ষাপটেই ঝাং ইয়ামিংকে উদ্ধৃত করে টিকটক প্রতিষ্ঠার কারণ এবং ভারতে টিকটক ব্যবহারকারীদের সংখ্যা নিয়ে ওই মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ে। একই দাবির বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম Republic World-ও ২০২০ সালে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেও ঝাং ইয়ামিংয়ের নামে প্রচারিত বক্তব্যটিকে ভুয়া বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া newschecker এর ফ্যাক্টচ্যাকেও এই ভাইরাল উক্তিকে ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

 

বক্তব্যের কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই

বেঙ্গল লেন্সের অনুসন্ধানেও ঝাং ইয়ামিংয়ের এমন কোনো বক্তব্যের নির্ভরযোগ্য উৎস পাওয়া যায়নি। টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার নামে প্রচারিত এই মন্তব্যের পক্ষে কোনো সাক্ষাৎকার, বক্তব্য, সংবাদ প্রতিবেদন কিংবা প্রামাণ্য নথিও পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, পূর্বে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনগুলোতেও একই মন্তব্যকে ঝাং ইয়ামিংয়ের বক্তব্য নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাই ঝাং ইয়ামিংয়ের নামে প্রচারিত ওই বক্তব্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া।