ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার (২৯ আগস্ট) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কোনো অনুষ্ঠান হবে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এরই মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল। তবে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচির ভেন্যু বাতিল করা হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ বলেন, পূর্বঘোষিত সভা নির্ধারিত সময়েই হওয়ার কথা রয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নেতৃত্বে দলের কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত থাকার কথা।
তারও আগে শুক্রবার রাতে সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
পরিষদের নেতা আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর কাছে তাদের তিনটি দাবি রয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তাকে লাইভে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেও দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাছেও ক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
তিনি বলেন, এসব দাবি মানা না হওয়ায় তারা পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। শনিবার বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও ইসলামি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইসলামপ্রিয় মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, এনসিপি শিল্পকলায় একটি অনুষ্ঠানের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক কর্মসূচি এক বিষয় নয়। তাই ওই কর্মসূচির ভেন্যু বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদও কোনো অনুষ্ঠানের জন্য আবেদন করেনি। ফলে শিল্পকলা একাডেমিতে কোনো প্রোগ্রাম হবে না। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহ কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন। এরপর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।