Image description

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘সুখী-সমৃদ্ধ একটি নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে ওঠার প্রত্যাশার কথা বলেছেন।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নিজের এই প্রত্যাশার কথা তিনি জানান।

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে চলা মির্জা ফখরুল বলেন, “অনেক কিছু মিস করব। যা স্মরণ করলে আমি আবেগকে ধরে রাখতে পারি না।

“দোয়া করি সৃষ্টি কর্তার কাছে সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সকলে সরকারকে সহযোগিতা করুন।”

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখব, যা আমি প্রত্যাশা করছি, যা আমি মনে মনে স্বপ্ন দেখছি, সেটি হচ্ছে, একটি সুখী, সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী, দিনে আনা দিনে খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে, সুস্থ পরিবেশে তারা বসবাস করতে পারবে, নিরাপদে-নিশ্চিন্তে তারা জীবন যাপন করতে পারবে।

“যেখানে আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে। যেখানে আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী সমাজ তাদের আত্ম কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা ফখরুল বলেন, “বিশ্বের বুকে আমরা বাংলাদেশিরা একটি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ হিসেবে নিজের পরিচিত করব। আমি বিশ্বাস করি, আমি প্রত্যাশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণ করতে সক্ষম হবে।”

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “প্রথমে আমি শুকরিয়া আদায় করতে চাই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই দেশবাসীর কাছে, যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে আমি পাশে ছিলাম, সুখে-দুখে তাদের কাছে ছিলাম। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই গণমাধ্যমসহ সব শ্রেনী পেশার মানুষের প্রতি।

“সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই, বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি। আমি মনে করি, তার নেতৃত্বে ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ এর গন্তব্যে পৌঁছাবে।’’

খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ এ দিনে যাকে আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, আমার মন কাঁদে, তিনি হলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই মহিয়সী নারী নেত্রী প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার সান্নিধ্য আমি পেয়েছি, স্নেহ পেয়েছি। আজকে আমার ক্ষণে ক্ষণে তার কথা স্মরণে আসে, আমার আবেগকে স্পর্শ করে, শিহরণ জাগায়।”

বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন। পরে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে খালেদা জিয়ার সরকারে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সবশেষ তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় তিনি দল ও সরকারের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

দুপুর ২টায় ভোট

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরু হবে। ভোট চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন এই নির্বাচনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ২৪৯ জন সংসদ সদস্য।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল বলেন, দুপুর ২টায় তিনি ভোট দিতে সংসদে যাবেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।

তবে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এবং এমপিদের দলের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় মির্জা ফখরুলই বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

বিদায়ের আগে শেষ সংসদীয় দলের সভা

গত কয়েকদিন ধরে হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বরে মির্জা ফখরুলের সরকারি বাসভবনে নেতা-কর্মীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরা মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে আসছেন। তাদের সঙ্গে দেখা করছেন তিনি এবং নিজের জন্য দোয়া চাইছেন।

বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরপরই তার আসনটি শূন্য হয়ে যাবে।