Image description
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে পাস করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা।
 
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নির্বাচিতদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
 
ফলাফলে উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নাম আসে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের নাম। তিনি চরমজলিশপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। তারপর থেকে তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সরকার সমর্থকরা শোরগোল তোলে তার নাম বাতিল করা দাবি জানাতে থাকে।
 
জানা গেছে, গত ২ আগস্ট সুপারভাইজার এবং ৪ আগস্ট তথ্য সংগ্রহকারী পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি পদে ছয় শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১৭৫ জনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ছাত্রলীগের এই নেতার নাম দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমে দায়িত্ব দেয়ার আগে যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।
 
এদিকে, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন সরকার সমর্থক ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ফেসবুক ব্যবহারকারীরা।
 
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচির দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও রাজনৈতিক পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কীভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার।’
 
তবে সরকার সমর্থকদের শোরগোলের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বাদল। তিনি লিখেছেন ‘ফ্যামিলি কার্ড জনগণের অর্থায়নের প্রকল্প, বাস্তবায়ন করবে সরকার, উপকারভোগী সর্বসাধারণ। কিন্তু বিএনপির লোকজন যেভাবে লেখালেখি করতেছে তাতে বুঝা যাচ্ছে সরকারি অর্থ দলীয় লোকদের মাঝে হরি লুটের একটা প্রকল্প। বিএনপির লোকজন বুঝতে হবে এটা দলীয় প্রকল্প নয়। ছেলেটি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছে, তার নাম বাতিল করার দাবি জানানো নয়া ফ্যাসিবাদ।’
 
তবে বিষয়টি নিয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমি পরীক্ষা দিয়েছি। তবে পাস করব, এটা ভাবিনি। পাস করার পর ফেসবুকে শোরগোল দেখে অস্বস্তিতে রয়েছি, বলা যায় পাস করে বিপাকে পড়েছি।’ তিনি নিজের দলীয় পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
 
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারজান হোসাইন বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা মেনেই পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১৭৫ জনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দুইজনের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’