Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে আজ রোববার সন্ধ্যায় Ai Transhumanism & Islam শিরোনামে একাডেমিক ডিসকাশন নাম দিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিতর্কিত ইসলামি বক্তা আসিফ আদনান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসিফ আদনানকে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোয় সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তৈরি হয়েছে সমালোচনা। আসিফ আদনানকে উগ্রবাদী বক্তা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই অনুষ্ঠানটির আয়োজকদের পরিচয় ও হল প্রশাসনের অনুষ্ঠানের অনুমোদন দেয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সাংবাদিক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ রুহেল লিখেছেন, "আসিফ আদনান ঢাবিতে আসছে! আল-কায়েদার প্রতি সহানুভূতিশীল, উগ্রবাদী মতাদর্শের প্রচারক এবং উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে জেলখাটা একজন ব্যক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে।আর মনে হচ্ছে, ঢাবি প্রশাসনের এতে কোনো সমস্যাই নেই। পরাবাস্তব। একেবারেই পরাবাস্তব।"

বিএনপিপন্থী এক্টিভিস্ট মীর আরশাদুল হক লিখেছেন, "আসিফ আদনান আল কায়েদার প্রচারক, উগ্র বাদী ও জ ঙ্গিবাদী প্রচারণার জন্য সুপরিচিত এই লোক। এই প্রোগ্রামের আয়োজক কারা? কারা এদের সেল্টার দিচ্ছে? নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সাথে এদের সম্পর্ক কি? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে এসে প্রোগ্রাম করে যায় প্রশাসন কি করে? রাজনৈতিক দলগুলো ও তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো চুপ কেন?"

বেঙ্গল লেন্স খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলেন অমর একুশে হল ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ফাহিম শাহরিয়ার।

ফাহিম শাহরিয়ার শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন কেউ কেউ।

রেজওয়ান আহমেদ রিফাত নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, "আজকে আসিফ আদনানের প্রোগ্রামের আয়োজক হিসেবে লেখা সাধারণ শিক্ষার্থী কিন্তু এই প্রোগ্রামের ঘোষণা দিচ্ছে অমর একুশে হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক। যতটুক ধারণা করছি এই সাহিত্য সম্পাদক অসাধারণ শিক্ষার্থী (শিবির)। ক্যাম্পাসে কারা এদের পুনর্বাসন করছে এটা স্পষ্ট।"

a93b9ed7-d416-43f2-a80e-ec634aa06ca6

তবে জানতে চাইলে ফাহিম বেঙ্গল লেন্সের কাছে দাবি করেছেন, তিনি শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত নন। তবে বিগত ডাকসু নির্বাচনে শিবির তাকে সমর্থন দিয়েছিল।

আসিফ আদনানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক সম্পর্কে তিনি বলেন, "উনাকে নিয়ে যে ন্যারেটিভগুলো আমরা এটা ভাঙতে চাই, কিছু করলেই শিবির কিছু করলেই জঙ্গি। উনার সবকিছু প্রকাশ্য। উনি ইকোনমিক্সে পড়েন। উনার সাথে আমার তেমন কোন সম্পর্ক নাই কিন্তু আমার ইসলামের ভাই। সেই হিসেবে আমরা চাচ্ছিলাম যে উনি হলে আসুক। আমরা সবার অনুমতি নিয়েছি, আমরা জনে জনে গিয়েছি। হলে বাকিদের সাথে কথা বলছি, সবাই বলছে ওনাকে আনা উচিত। গ্রুপে অনেকেই বলছিল যে যে ইস্যুটা ছিল সে বিষয়ে আসিফ ভাই ভালো নলেজ রাখেন। "

ফাহিম আরও বলেন, "বামরা এখানে লাল সন্ত্রাসের কথা বলে, সেখানে আমরা কেন উনাকে আনতে পারবো না!"

অনুষ্ঠানটি আয়োজনে তার সাথে আরও যারা কাজ করেছেন তাদের নাম বলতে চাননি ফাহিম।

অমর একুশে হল সংসদের এজিএস ও ছাত্রশিবির নেতা উবায়দুর রহমান হাসিব বলেন, "আসিফ আদনান প্রোগ্রামে অতিথি হিসেবে থাকবে এটি আয়োজকরা জানায়নি। যখন এটা জানা যায় তখন আপত্তি জানালে হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে৷"

শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন খান দাবি করেন, আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাহিম তাদের জনশক্তি নন। তিনি বলেন, "হল প্রভোস্ট এই প্রোগ্রামের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বাকি সব ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।"

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদও অনুষ্ঠানের আয়োজক ডাকসু কিংবা হল সংসদ নয় বলে দাবি করেছেন।

অমর একুশে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জসীম উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন মসজিদে একটি প্রোগ্রাম করার কথা বলে অনুমতি নিয়েছিল। পরে তারা সেটি হলের টেলিভিশন রুমে করতে চায়। তখন হল প্রশাসন থেকে সেটি টিভি রুমে করতে দেওয়া হয়নি।"

তবে অনুষ্ঠানে ছবি যাচাই করে দেখা যায় অনুষ্ঠানটি অমর একুশে হলের টিভি রুমেই আয়োজিত হয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানের ব্যানারেও ভেন্যু হিসেবে অমর একুশে হলের টিভি রুম উল্লেখ রয়েছে।

২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইসিসের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে আসিফ আদনানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার বাবা আব্দুস সালাম মামুন হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি ছিলেন। গত জাতীয় নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে এমপি পদে নমিনেশন প্রত্যাশী ছিলেন।

আসিফ আদনান বিভিন্ন সময় উগ্রবাদী কোন সংগঠনে তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।