বিপুল বিজয় নিয়ে বিএনপির ক্ষমতাসীন হওয়ার ছয় মাস পূর্ণ হলো আজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেয় এ সরকার। এ সময়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের প্রায় সব ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কেটে ক্রমান্বয়ে জনমনে ফিরছে আস্থা ও বিশ্বাস। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল লক্ষ্য করার মতো। অর্থনৈতিক অবস্থা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণসহ আমলাতান্ত্রিক নানা জটিলতা নিরসনে চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরিস্থিতি উন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে নতুন সরকার।
অবশ্য সরকার পরিচালনায় অনেক সীমাবদ্ধতা মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেশ ইতিবাচক কিছু পদক্ষেপ প্রশংসা পেয়েছে জনগণের। সরকারপ্রধান মনে করেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনই সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানুষের আস্থা ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করেই সরকার একটি সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী ও অগ্রসর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সময়ে সরকারের প্রচেষ্টার কমতি ছিল না। তবে রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। সঠিক সময়ে নিতে হবে সঠিক পদক্ষেপ।
১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে ৩১ দফা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। প্রথম ছয় মাসে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি, নদীদূষণ রোধ, বৃক্ষরোপণ, যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের নেওয়া দ্রুত ও জনমুখী কার্যক্রমের বাস্তব প্রভাব জনমনে সরকার সম্পর্কে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। জাতিসংঘে সরকারের বড় কূটনৈতিক সাফল্য ছাড়াও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, বিদেশি বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ও ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেছে। এ সময়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং বাস্তবায়নের গতি ছিল ঊর্ধ্বগতি। তবে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতাও লক্ষ করা গেছে। সরকারের প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিসংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং মূল্যস্ফীতি আশানুরূপ পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। দুর্নীতি-অনিয়মের লাগাম টানার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা আছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা, অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা, টেন্ডার বিলম্ব, ঠিকাদারসংকট এবং আমলাতান্ত্রিক ভয়ানক জটিলতা নিরসনে সরকারপ্রধানের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এখনো সব ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি আসেনি।
সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষার সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ছয় মাসে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা নির্ণয় কিংবা বিচারের কোনো সুযোগ নেই। বরং সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু জরুরি সেবা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সরকারের প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র, প্রান্তিক, নারী ও পুরুষ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে নতুন কর্মসূচি, বিদেশি বিনিয়োগে উদ্যোগসহ নানা কর্মসূচি সরকারের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাড়ে তিন মাসের মাথায় বাজেট ঘোষণা এবং একে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কাছাকাছি রাখার চেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি করের চাপ না বাড়িয়ে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য এই বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের মানুষ ব্যাপক ভিত্তিতে উপকৃত হবে।
জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক চিফ ইকোনমিস্ট এম কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মাত্র ছয় মাসে একটা সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতা বিচার করা যায় না। এ সময়ে সরকারের প্রচেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবেই। সরকার সংস্কারের কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে, এগুলোর বাস্তবায়ন দরকার। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে হবে।
উল্লেখযোগ্য অর্জন ও পদক্ষেপ : সরকারের প্রথম ছয় মাসে নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্যে রয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা খাতে রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যক্রম এবং জুলাই যোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান শুরু। অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বিনিয়োগ বৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি, বন্ধ থাকা ১৪টি পাটকলের মধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা। শিক্ষা ও সামাজিক খাতে শিক্ষকদের বকেয়া ভাতা প্রদান, বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ও কল্যাণ সুবিধার দাবি পরিশোধের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ। শিক্ষার্থীদের সুযোগসুবিধার মধ্যে প্রাথমিক স্তরে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতো ও ব্যাগ বিতরণ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে সুদমুক্ত ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য খাতে রয়েছে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গঠন এবং ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে খেলোয়ারদের কার্ড প্রদান। এই প্রথমবার কোনো সরকার সারা দেশে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ পুরোহিত ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য বেতন-ভাতা ও বোনাসের ব্যবস্থা করেছে। এআই পদ্ধতির ট্রাফিক সিস্টেম চালুসহ ঢাকা মহানগর থেকে বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। হাম প্রতিরোধী টিকাদানে প্রায় শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশের আকাশসীমা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং সংগঠিত সন্ত্রাস মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সমন্বয়হীনতা এখনো দৃশ্যমান। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং জেল পলাতক আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধীদের আশ্রয়প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসবের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বেশ ইতিবাচক। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া সরকারের বড় কূটনৈতিক সাফল্য। এ জয় ঐতিহাসিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নিয়ে প্রথম মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক ‘উন্নয়ন সহযোগী’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে চীনসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা রয়েছে। ভারতের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার বাস্তবতাও সরকার বিবেচনায় রাখছে।
অর্থনীতি নিয়ে আছে সাহসী সিদ্ধান্ত : গত আওয়ামী লীগ সরকারের দূনীতি ও অনিয়মের কারণে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে গত ছয় মাসে বর্তমান সরকার বেশ কিছু সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৯ দশমিক ৩৮ লাখ কোটি টাকার একটি বিশাল এবং সংস্কারমুখী বাজেট ঘোষণা করেছে। বন্ধ শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতে গতি আনতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। পুরোনো ঋণ কর্মসূচি বাদ দিয়ে দেশের স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলারের একটি নতুন ঋণ কর্মসূচির প্রস্তাব নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে অর্থ বিভাগ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার উচ্চপর্যায়ে ধরে রেখেছে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রচেষ্টা : স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এবারের জাতীয় বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হেলথ কার্ড চালু করা হয়েছে। সেবার মান বাড়ানো ও স্বাস্থ্যসেবা জনমানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য মজুতে নতুন ইতিহাস : সরকারি গুদামে বর্তমানে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ খাদ্যশস্যের মজুত রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টনের বেশি। এই মজুত দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ, ১৫ টাকা কেজি দরে খাদ্যসহায়তা, নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য সহজ ঋণ এবং স্টার্টআপ তহবিল গঠন করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া খাতে স্মার্ট ক্লাসরুম, নতুন পাঠ্যক্রম, বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়া এ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী পূর্বের সিন্ডিকেট বাতিল করে এবার বাংলাদেশ সরকার নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি ও কর্মী হয়রানি বন্ধ করা। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয় শূন্যে নামিয়ে এনে সম্পূর্ণ নিখরচায় এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ শ্রমিকরা কোনো ধরনের ঋণ বা শোষণের শিকার না হন।
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ : রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনীতির মাঠে সরকারের জন্য কিছু উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার পূরণ নিয়ে বিরোধীদের প্রচারণায় সরকার যথাযথ রাজনৈতিক জবাব দিতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। গণভোটের রায় কীভাবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে সংসদকে কাজে লাগিয়ে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংশোধনীগুলো বিল আকারে উত্থাপন করা গেলে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারত।
পাশাপাশি শরিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মাসে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শরিকদের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কমিয়ে ঐকমত্য ধরে রাখার চেষ্টা ইতিবাচক।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় আসা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও সেক্টরে নির্বাচনি ইশতেহারের মূল অঙ্গীকারগুলো ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মানুষের আস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বিদেশিরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে। সরকারপ্রধানের ঘোষণামতে, সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে শুরু করে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের এই ১৮০ দিনের কর্মমূল্যায়ন করা হবে। যাতে তাঁরা ভবিষ্যতে নিজেদের কার্যক্রমে আরও বেশি করে তৎপর হতে পারেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন কর্মসংস্কৃতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগে জাতীয় সরকার এবং ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের কথা বলেছিলেন। রেইনবো নেশনের ধারণার একটি প্রতিফলন সরকারের কার্যক্রমেও থাকা প্রয়োজন।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেককেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যাঁদের চিনি তাঁদেরও প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে দেখছি না।’ তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা এখনো অনেক বড়। জুলাই আন্দোলন হয়েছে, তার মূল আকাক্সক্ষা ছিল ‘নতুন বাংলাদেশ’। সংস্কারসহ পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি অনুযায়ী একটি নতুন দেশ গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো সরকারই মানুষ চায়।