দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন করে যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই দিল্লিতে আওয়ামী লীগের আরেকটি সভা আয়োজনের পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জানিয়েছে, চলতি আগস্টের শেষ নাগাদ দিল্লিতে আওয়ামী লীগের সদস্যরা একটি সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। তবে সভাটির নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এমন কোনো আয়োজন হলে তা ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া ইতিবাচক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কারণ, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দিল্লিতে রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন হলে বিষয়টি আবারও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসতে পারে।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রকাশ্য কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। ওই অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে না দেওয়া হয়। ঢাকার উদ্বেগের মূল কারণ ছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেবেন এবং তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি হয়। শেখ হাসিনা সেখানে অডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও বলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারকে আক্রমণ করেন।
এই অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ সরকার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনার এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। এর আগে অনুষ্ঠানটি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছিল, ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ভারতের বক্তব্য ছিল, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উদ্যোগে হয়েছে এবং ভারত সরকার এর আয়োজন বা বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত নয়। রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া—দুই সংবাদমাধ্যমই ভারতের এই অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
তবে বাংলাদেশ বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখলেও ভারত বলছে, শেখ হাসিনার কোনো বক্তব্য বা অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের অবস্থানকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। অর্থাৎ, দিল্লি একদিকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ঢাকার প্রত্যাশা অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিতও দিচ্ছে না।
৫ আগস্টের ঘটনার পরও দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ থেমে থাকেনি। বরং বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও তারেক রহমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ভারতও বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে তারা আগ্রহী।
এর আগে ২৩ জুলাই ভারত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানায়। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে এই সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা পরে জানান, আমন্ত্রণটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ বাংলাদেশ সরকার পর্যালোচনা করছে। একই সময়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। ত্রিবেদী বলেন, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং দিল্লি এই সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।
এরই ধারাবাহিকতায় এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরটি যত দ্রুত সম্ভব আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই প্রতিবেদনের সূত্র অনুযায়ী, সফরটি আগস্টের শেষের দিকে বা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে—যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি, যোগাযোগ ও নিরাপত্তার মতো বিষয় থাকার কথা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে আওয়ামী লীগের নতুন সভার পরিকল্পনার খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, একদিকে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতির দিকে এগোচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার খবর সেই প্রক্রিয়াকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য হিন্দুকে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সদস্যরা আগস্টের শেষ নাগাদ দিল্লিতে আরেকটি সভা করার পরিকল্পনা করছেন। তবে সভার দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে, এমন কোনো আয়োজন হলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হওয়া ইতিবাচক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে দিল্লিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট তৎপরতা নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগের নজির রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা দিল্লিতে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পাঁচজন জ্যেষ্ঠ নেতা ২১ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রশ্নটি তাই শুধু ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও দিল্লিতে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছিল, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার রেকর্ড করা বক্তব্য শোনানো হয়।
এদিকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নেও ভারতের অবস্থান পুরোপুরি বদলায়নি। এপ্রিল মাসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-অনুরোধ তারা আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট তখন লিখেছিল, ভারতের এই পর্যালোচনা আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত দিলেও এর অর্থ এই নয় যে দিল্লি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত। একই প্রতিবেদনে এক বিশ্লেষক শেখ হাসিনাকে দিল্লির জন্য একটি ‘কৌশলগত সম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
অর্থাৎ, কূটনৈতিক তৎপরতা যতই বাড়ুক, শেখ হাসিনার প্রশ্নে ভারতের মৌলিক অবস্থান বদলেছে—এমন প্রমাণ এখনো নেই। বরং দিল্লির কৌশলটি অনেকটা এমন যে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে একটি পৃথক আইনি ও রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে রেখে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অন্য ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া। এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির উদ্যোগে।
ভারতের নীতিনির্ধারকদের এই অবস্থানের পেছনে কেবল শেখ হাসিনার সঙ্গে পুরোনো রাজনৈতিক সম্পর্কই কাজ করছে—এমনটা মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা। আল জাজিরার সঙ্গে আলোচনায় জর্জিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার ও ভারতের মধ্যে কাজের সম্পর্ক গড়ে ওঠার যথেষ্ট প্রণোদনা রয়েছে। তবে তার মতে, শেখ হাসিনা আমলের মতো রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার পুনরাবৃত্তি না করে পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌমত্ব ও একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগোতে পারে।
ভারতের সাবেক সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি এস হুডা দ্য উইকে দেওয়া বিশ্লেষণে বলেন, শেখ হাসিনা আমলের ঘনিষ্ঠতার জায়গায় দুই দেশের এখন বাস্তববাদী সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। তার মতে, ভারতের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তার সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ; একইভাবে বাংলাদেশের জন্য ভারতের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ব্যয় বাড়াতে পারে।
ভারতীয় বিশ্লেষক মহলেও শেখ হাসিনার বিষয়ে দিল্লির অবস্থানকে ‘ক্যালিব্রেটেড’ বা পরিমিত নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইন্ডিয়া টুডের বিশ্লেষণে বলা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠনের অন্যতম সংবেদনশীল বিষয়। প্রতিবেদনে দিল্লির জন্য নাটকীয় সিদ্ধান্তের বদলে নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত অবস্থান নেওয়াকেই বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তবে দিল্লির সামনে বাস্তবতা হলো, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আবেগকে উপেক্ষা করা কঠিন। ৫ আগস্টের অনুষ্ঠানটি নিয়ে ঢাকার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আবার দিল্লির দৃষ্টিতে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা, তার প্রত্যর্পণ এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আলাদা একটি জটিল বিষয়।
এ কারণে আগস্টের শেষ সপ্তাহে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সভাটিকে শুধু একটি দলীয় অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছে না কূটনৈতিক মহল। তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর যখন দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা তৈরি করছে, তখন দিল্লিতে আওয়ামী লীগের আরেকটি রাজনৈতিক আয়োজন সেই প্রক্রিয়ায় নতুন অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘটনার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এমন আয়োজন হলে ঢাকার রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠবে, ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দিল্লির নীতিটি আসলে কী।
অন্যদিকে, ভারতের জন্যও বিষয়টি ভারসাম্যের। একদিকে নতুন নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা, অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নেওয়া—দুটি বিষয়কে একই সঙ্গে সামলাতে হচ্ছে দিল্লিকে। ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ, নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারের সক্রিয়তা এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি দেখাচ্ছে, ভারত সরকার সম্পর্কের সামগ্রিক কাঠামোকে সামনে এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
পর্যবেক্ষকদের এখন নজর থাকবে আগস্টের শেষ সপ্তাহের সম্ভাব্য আওয়ামী লীগ সভাটির দিকে। তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। সভাটি আদৌ হবে কি না, হলে কারা অংশ নেবেন এবং ভারত সরকার বিষয়টিকে কীভাবে দেখবে—এসব প্রশ্নের উত্তর সামনে আসেনি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক যখন শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাস্তবতায় নতুন ভারসাম্য খুঁজছে, তখন দিল্লিতে আওয়ামী লীগের যেকোনো রাজনৈতিক আয়োজন শুধু একটি দলের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি হিসেবে দেখা হবে না। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে থাকবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের পরিবেশও।
ফলে সামনে দুটি সমান্তরাল ধারা দেখা যাচ্ছে। একদিকে তারেক রহমান সরকার ও নরেন্দ্র মোদি সরকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুঁজছে; অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা সেই সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে থাকছে। দিল্লিতে আগস্টের শেষ সপ্তাহে সম্ভাব্য নতুন সভাটি সেই পরীক্ষারই পরবর্তী পর্ব হয়ে উঠতে পারে।