Image description

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শাহবাগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ একটি ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি ৪ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আনু মোহাম্মদ সেদিন ব্যান্ডেজ লাগানো পা নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শাহবাগে উপস্থিত হয়েছিলেন। এই সংকটময় মুহূর্তে অরণী সেমন্তী খানও অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেদিনের একটি বিশেষ ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি লিখেন, আনু মোহাম্মদ সেদিন একটি ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ছায়া মন্ত্রিসভার প্রস্তাবনা সংবলিত একটি কাগজ তার হাতে ধরিয়ে দেন। প্রস্তাবনাটি পুরোটা পড়ার পর সেদিনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি অধ্যাপক আনু মোহাম্মদকে বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য রাখেননি। আপনি বক্তব্য রাখলে বিষয়টা একটু ঘোলাটে হবে। আমরাই হ্যান্ডেল করি।’ তার এই কথায় আনু মোহাম্মদ মাথা ঝুঁকিয়ে সায় দেন। 

ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধতা থেকেই এই অমোঘ সত্যটি প্রকাশ করেছেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানান নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী। ফেসবুক পোস্টে শুধু সেদিনের ঘটনার বিবরণই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা ও নিজস্ব আদর্শিক অবস্থানের কথাও সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি ও মতাদর্শ ভিন্ন হলেও যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সৌন্দর্য এবং শেষ বিচার জনগণের হাতেই ন্যস্ত থাকে।

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, ইসলামের জন্য যারা কাজ করেন, তাদের প্রতিও এই বামপন্থী তাত্ত্বিকের ন্যায়বিচার, সম্মান ও সহমর্মিতার দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

কার্ল মার্কস, লেনিন বা চে গুয়েভারা অনেকের কাছে বিপ্লবের প্রেরণা হলেও, নিজের আদর্শিক জায়গা স্পষ্ট করে তিনি জানান, তার কাছে ন্যায়, মানবতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ধর্মকে ‘আফিম’ বা নেশা হিসেবে দেখার যে প্রচলিত বামপন্থী বয়ান রয়েছে, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, ধর্ম তার কাছে মানুষ হয়ে ওঠার এক জীবন্ত দলিল। ধর্মই তাকে জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, মজলুমের পাশে থাকতে এবং দুর্বলকে রক্ষা করতে শিখিয়েছে।

পোস্টের শেষে তিনি স্পষ্ট করেন, তার রাজনীতির মূল ভিত্তি ক্ষমতা দখল নয়, বরং মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণ। এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেন, যেখানে মত, বিশ্বাস ও পরিচয়ের ভিন্নতা কোনো বিভেদের কারণ হবে না, বরং তা হয়ে উঠবে সহাবস্থান ও ঐক্যের মূল শক্তি।