Image description

ইরানে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে প্রণীত পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তৎপরতা জোরদার করা এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোসাদপ্রধান রোমান গোফম্যান ওই দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের একজন মোসাদের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান, যিনি কয়েক মাস আগে এ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। অন্যজন ছিলেন সংস্থাটির ইরান বিভাগের প্রধান। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

চ্যানেল ১২-এর দাবি, পরিকল্পনাটি এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যৌথ বিমান হামলার আড়ালে ইরানের ভেতরে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড সক্রিয় করা যায়। একই সঙ্গে বিকল্প রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছিল। 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পরিকল্পনাটি হয় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত হয়ে যায়। মোসাদপ্রধান গোফম্যানের সঙ্গে বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তার সম্পর্ক শুরু থেকেই ভালো ছিল না। ইরান–সংক্রান্ত কৌশল ও অগ্রাধিকার নিয়ে মতপার্থক্যও এ সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চ্যানেল ১২ আরো দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনায় ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে বিকল্প নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এ ছাড়া মোসাদ ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর যৌথ উদ্যোগে কুর্দি যোদ্ধাদের সহায়তায় ইরানে প্রভাব বিস্তারের একটি পরিকল্পনাও বিবেচনায় ছিল। তবে সেটি প্রাথমিক পর্যায়েই থেমে যায় এবং পরে বাতিল করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ইসরাইল সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ১৩ মার্চ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেছিলেন, ইরানের সরকারকে উৎখাত করা সহজ হবে না। সে সময় তিনি বলেছিলেন, এটি ঘটবেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা এবং পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে।