সম্প্রতি মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় বোমা পাওয়া গেলে শুরু হয় আলোচনা ও অনুসন্ধান। তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এসব কার্যক্রম এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বড় মাশুল দিতে হবে বলে আশঙ্কা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় দুই দশক পর আবার সক্রিয় হচ্ছে তাদের উত্তরসূরিরা। অতীতে জেএমবি বা সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদীদের গ্রেপ্তার করা বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে উগ্রবাদীরা।
এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের ওপর হামলা করতে অর্ধশতাধিক বোমা তৈরি করা হয়েছিল কেরানীগঞ্জ এলাকায়। ওই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর গত ২৫ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথে শক্তিশালী ছাতাবোমা (আইইডি) পাতা হয়েছিল। আগামীতে দেশের যে কোনো বড় জনসমাগমস্থল বা স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করছে এসব জঙ্গিরা।
সে লক্ষ্যে উগ্রবাদীরা নতুন করে যোগাযোগ স্থাপন, সদস্য সংগ্রহ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং এশিয়া পোস্টের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার বা দণ্ডপ্রাপ্ত দেশের আলোচিত জঙ্গি সদস্যদের অনেকেই মুক্তি পায়। জেল থেকে পালিয়ে যায় কেউ কেউ। তাদেরই একটি অংশ আবারও সক্রিয় হয়ে ছোট ছোট সেল গঠন, নতুন সদস্য সংগ্রহ, অর্থায়নের উৎস তৈরি এবং বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
বর্তমানে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো বড় সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তে বিচ্ছিন্ন ‘স্লিপার সেল’ কৌশলে কাজ করার প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন। এরই মধ্যে রাজধানীর একাধিক স্থানে বোমা হামলার পরিকল্পনা করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার পথে শক্তিশালী ছাতাবোমাটির তদন্ত করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে আসে অন্যতম আলোচিত নাম নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’।
২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট রাজধানীর পান্থপথের ‘হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল’-এ আস্তানা গড়েছিল নব্য জেএমবির সদস্যরা।

ওই বছরের ১৫ আগস্ট সকালে পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট হোটেলটিতে ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’নামে একটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাইফুলের ইসলাম নামের এক মূল হামলাকারী নিহত হয়। ২০১৯ সালে ১১ আগস্ট ওই সন্ত্রাসী হামলা মামলার অভিযোগপত্রের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বোমারু মামুন নামের সঙ্গে পরিচতি হয় তৎকালীন পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীরা।
বুধবার (৫ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের নিজস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডিএমপি নিউজে সেই পুরোনো খবরটি পাওয়া যায়। ডিএমপি নিউজের তথ্য অনুসারে, দুই বছর তদন্ত শেষে ‘হোটেল ওলিও’তে সন্ত্রাসী হামলা মামলায় ১৫ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছিল কাউন্টার টেররিজম বিভাগ।

ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৫ জন হলো—আকরাম হোসেন খান নিলয়, তানভীর ইয়াসীন কবির, আবু তুরাব খান, সাদিয়া হোসনা লাকি, হুমায়রা জাকির নাবিলা, ৬। তাজরীন খানম শুভ, ৭। আব্দুল্লাহ আয়চান কবিরাজ, ৮। আবুল কাশেম ফকির, লুলু সরদার ওরফে শহিদ মিস্ত্রি, তাজুল ইসলাম ছোটন, নাজমুল হাসান মামুন, নবমুসলিম আব্দুল্লাহ, কামরুল ইসলাম শাকিল, তারেক মো. আদনান ও সাইফুল ইসলাম।
তারা সবাই হামলাকারী এবং সকলেই নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য। গ্রেপ্তারকৃত ১৪ আসামির মধ্যে ১০ জন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে বলে ডিএমপির নিউজে এখনও উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রোববার এই মামুনকে রাজধানীর উত্তরার সাত নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় মামুন নব্য জেএমবি’র শীর্ষস্থানীয় নেতা ও শুরা সদস্য ছিলেন। তিনি জঙ্গি সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ, বিষ্ফোরক তৈরি, প্রশিক্ষণ দেয়া ও নাশকতামূলক হামলার পরিকল্পনা ইত্যাদি দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন বলে ডিএমপির আরেকটি নিউজে বলা হয়।

আইনশৃঙ্খলা সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কয়েকশ সদস্য জামিনে মুক্তি এবং কারাগার থেকে পালিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। এর মধ্যে জামিনে মুক্ত ৩৭০ এবং ৯ জঙ্গির হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তারা গোপনে দল পুনর্গঠন ও নতুন সদস্য সংগ্রহের তৎপরতা চালাচ্ছে বলে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে গোপন বৈঠক, এনক্রিপ্টেট অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং নতুনভাবে অর্থায়নের মাধ্যমে সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করার চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে এই মুহূর্তে সব থেকে আলোচিত ও বেপরোয়া নাম মামুন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর মামুন কারাগার থেকে বের হয়ে কেরানীগঞ্জ ও সাভারে বসবাস শুরু করেন। তার সঙ্গে যোগ দেন শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফসহ অন্তত ১৫ জন। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করে বোমা তৈরির সরমঞ্জান, অর্থ ও জনবল সংগ্রহ করার কাজ পুরোদমে শুরু করেন।
সংসদ নির্বাচন বানচালে কেরানীগঞ্জে তৈরি হয় বোমা
কাউন্টার টেররিজমের এক উপপুলিশ কমিশনার নাম না প্রকাশ করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি আবাসিক ভবনে পরিচালিত উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় আস্তানা গড়েন মামুন। সেখানে তারা ৫৫টার বেশি শক্তিশালী বোমা তৈরি করে সংরক্ষণ শুরু করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবে তখন ঢাকা ও আশপাশের এলাকার একাধিক এমপি প্রার্থীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হবে। কিন্তু অসাবধানতায় সেখানে একটি বিস্ফোরণ ঘটলে গোপন আস্তানার কথা ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশের অভিযানে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় কয়েকজনকে।

ওই ঘটনায় কেরানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় একটি বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, একটি একতলা ভবনের উত্তর পাশের দুটি কক্ষের দেয়াল ও বাথরুমের ফলস সিলিং উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটির চারটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ২০২২ সাল থেকে একটি পরিবার সেখানে বসবাস করছিল এবং বাকি কক্ষগুলোতে ‘উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ পরিচালিত হচ্ছিল।
বিস্ফোরণে ওই পরিবারের দুই শিশু গুরুতর আহত হয়। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শেষে পরিবারের সদস্যরা সেখান থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিট, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক সংস্থা দুদিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালায়। পুলিশের দাবি, অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে ছিল প্রায় ৩৯৪ দশমিক ৫ লিটার বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, ২৭ কেজি পাউডার জাতীয় পদার্থ, একাধিক আইইডি ও বোমাসদৃশ বস্তু, দুটি শটগানের কার্তুজ, ৫০০ গ্রাম লোহার বল ও তারকাঁটা, ১৭টি কথিত জিহাদি বই, একটি ড্রিল মেশিন, টাকা গণনার মেশিন, একজোড়া হাতকড়া, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
এজাহারে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিকের মধ্যে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক অ্যাসিড, অ্যাসিটোনসহ বিভিন্ন দাহ্য ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন পদার্থ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কয়েকটি বোমা ও ককটেল অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করে।
মামলার এজাহারে পুলিশের দাবি, বিস্ফোরণের ঘটনার পর আলাদা অভিযানে ঢাকা ও বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশের (জেএমজেবি) সমর্থক বলে তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রচার, বিস্ফোরক প্রস্তুত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল। এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ব্যবহার করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে বিভিন্ন মন্দিরে হামলা চালানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল।
ঢোল থেকে ছাতা বোমা তৈরি করে মামুন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালে জন্ম নেওয়া মামুন রাজধানীর উত্তরার একটি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার সময় অনলাইনে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। এই মুহূর্তে তিনি একাই জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করছেন। ২০১৭ সালে মামুন রথযাত্রায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তখন ধামরাইয়ে তিনি ঢোলের মধ্যে বোমা তৈরি করে রথযাত্রার কোনো ঢুলির হাতে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তবে তার এই পরিকল্পনা থেকে সে সরে আসেননি মামুন ওরফে বোমারু মামুন। গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলে উল্টো রথযাত্রার রুটে ছাতার ভেতরে শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিত হয় এটি মামুনের কাজ।

গত ২৪ জুলাই দুপুর ১টা থেকে উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়, শাপলা চত্বর ও ইত্তেফাক মোড় অতিক্রম করে স্বামীবাগের ইসকন আশ্রমে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, রথযাত্রার ঘটনা কাকতালীয়ভাবে রক্ষা পেয়েছে। ওই স্থানে কয়েক হাজার লোক ছিল। ভুল করে কেউ ছাতা খুলতে চেষ্টা করলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটত।
তিনি আরও বলেন, যেখানে বোমাটি পাওয়া গেছে, ওটা নিরাপদ স্থান। পাশেই আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিল। তার পাশেই খুব পরিকল্পিতভাবে বোমাটি রাখা হয়। উগ্রবাদীরা বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে এই পরিকল্পনা করেছিল। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তা নিয়ে ডিবি, সিটিটিসি, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
মতিঝিল থানার মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের সার্জেন্ট মো. কাওসার হোসেন পুলিশ কন্ট্রোল রুমে খবর দেন যে, মেট্রোরেলের নিচে একটি ছাতা পড়ে আছে এবং সেটির ভেতরে আলো জ্বলছে। কন্ট্রোল রুম থেকে বিষয়টি মতিঝিল থানাকে জানানো হলে এসআই মির্জা মোহাম্মদ মুক্তা ও এসআই সোহেল রানা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
৫ আগস্টের পর মুক্ত জঙ্গিদের পুনর্গঠনে উদ্বেগ
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় আটক বা দণ্ডপ্রাপ্ত বেশ কয়েক জঙ্গি সদস্য কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের একটি অংশ পুনরায় সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, গত ৩১ জানুয়ারি যশোরে অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির এক সদস্যকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি। উদ্ধার হওয়া আলামত পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা সম্ভাব্য নাশকতার প্রস্তুতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে একটি আইইডি-ভর্তি ব্যাগ ফেলে যাওয়া হয়, যা পরে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই দিন কোনো জনবহুল স্থানে হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
৭ মার্চ কুমিল্লার কালিগাছতলা শিবমন্দিরে পূজা চলাকালে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। তদন্তে ঘটনাটিকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে পরিচালিত হামলা হিসেবে খতিয়ে দেখা হয়। ২৫ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশির সময় সন্দেহভাজনরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
স্বাধীনতা দিবসসহ প্রতিটি ঘটনা বিশেষ দিকেকে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় মামুনের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েক জায়গার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মামুনের চেহারা ধরা পড়েছে।
এসব ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, কারামুক্ত উগ্রপন্থিদের পুনর্গঠন, নতুন সদস্য নিয়োগ, বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়ার তথ্য আমাদের কাছে আসছে। আমরা এসব নাশকতা নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামুন সম্পর্কে সংগ্রহ করা সব তথ্য সঠিক। একাধিক সংস্থার পাশাপাশি সিটিটিসি মামুনকে সামনে রেখে তথ্য সংগ্রহ ও গ্রেপ্তারের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুধু মামুন নয়, যে কোনো দুর্বৃত্ত বড় ধরনের হামলা করার চেষ্টা করতে পারে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে সুযোগ দেবে না বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্ত।
এদিকে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান (অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার) এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন স্থানের বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার নিয়ে কাজ করছি। বিভিন্ন ইস্যুতে উগ্রবাদীদের নিয়ে কথা বলছি। তবে বড় ধরনের হামলা হতে পারে বলে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’