পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল পুলিশ স্টেশনে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ছাড়াও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। বিস্ফোরণে আরও অন্তত ২৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) সোয়াত পুলিশের মুখপাত্র নাসির ইকবাল করিমি এই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
সোয়াত জেলা পুলিশ অফিসার (ডিপিও) উমর খান জানান, পুলিশ স্টেশনের মূল প্রবেশপথে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি করার চেষ্টা করেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। ঠিক তখনই হামলাকারী তার শরীরে থাকা শক্তিশালী বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটায়।
মালাকান্দ বিভাগের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ফিদা হুসেন এএফপি-কে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া সন্দেহভাজন আত্মঘাতী হামলাকারীর বলে ধারণা করা একটি ছিন্নভিন্ন দেহাবশেষ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শান্তি সমাবেশের অদূরেই বিস্ফোরণ
সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক উগ্রপন্থি ও সন্ত্রাসী হামলার পুনরুত্থানের প্রতিবাদে কাবাল পুলিশ স্টেশনের ঠিক অদূরেই ‘কাবাল চকে’ শত শত স্থানীয় বাসিন্দা এক বিরাট প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। সমাবেশস্থলে শেষ বক্তার ভাষণ চলাকালে প্রবেশপথে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে, যা উপস্থিত জনমানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করে।
রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফৈজি জানান, সাইদু শরীফ কেন্দ্রীয় হাসপাতালে ৯ জন এবং কাবাল হাসপাতালে ৫ জনের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আহত ১৮ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
বিস্ফোরণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় নাগরিক নেতারা সোয়াতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। এক বক্তা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর রক্তপাত দেখেছি। আমাদের মা-বোনেরা অসীম কষ্ট ভোগ করেছেন। আমরা বিধবা ও অনাথদের আরেকটি প্রজন্ম দেখতে চাই না।’
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব ও শান্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারবে না।’
খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি ও মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন।
সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়ায় সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ৩০ জুলাই হাঙ্গু এলাকার এক পুলিশ চেকপোস্টে হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিকস’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রদেশটিতে বিদায়ী জুলাই মাসে উগ্রপন্থী হামলায় অন্তত ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা জুন মাসের (৭৫ জন) তুলনায় ১০৫ শতাংশ বেশি।
সূত্র: দ্য ডন