গাজীপুরে জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে মিছিল এবং পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও তিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা।
দলটির নেতারা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন ও গাছা এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে গাজীপুর মহানগরের বাসন এলাকার একটি স্থানীয় কার্যালয়ে জাতীয় যুবশক্তি ও জাতীয় কৃষকশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক ও গাজীপুর-২ আসনে সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আলী নাসের খান বলেন, গাজীপুরে জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘দেশের জনতা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গাজীপুরকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছে। অথচ এখন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মিছিল করছে। পুলিশ আগে থেকেই তথ্য পেয়েও এসব মিছিল ঠেকাতে পারছে না।’ গাজীপুরে সাম্প্রতিক কয়েকটি মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে আলী নাসের খান বলেন, গত ২১ মে গাছা থানায় যুবলীগের একটি মিছিল থেকে পুলিশকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২১ জুন বাসন থানায় মহানগর ছাত্রলীগ, ৩ জুলাই রাজেন্দ্রপুরে ছাত্রলীগ, ১৬ জুলাই বাসন থানায় ছাত্রলীগ এবং সর্বশেষ ২৬ জুলাই গাছা এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এসব কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও মহানগর পুলিশকে আগেই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছিল দাবি করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরাও মিছিলের সময় সম্পর্কে অবগত ছিলেন। এরপরও কেন এসব মিছিল প্রতিহত করা গেল না এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সংগঠকদের গ্রেপ্তার করা হয়নি, তার জবাব দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে গাছা থানার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। আলী নাসের খান বলেন, ‘কার ইশারায় এবং কী কারণে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়া হলো, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আব্দুর রহিমের অবৈধ অর্থের অর্থায়নে গাছা থানার এলাকায় একাধিকবার আওয়ামী লীগের মিছিল হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রহিম বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনসিপির নেতারা বলেন, আব্দুর রহিমসহ যেসব আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় যুবশক্তি গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাইদুল ইসলাম, যুবশক্তি গাছা থানার আহ্বায়ক সম্রাটসহ এনসিপি ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।