দলীয় কর্মকাণ্ডে হতাশা, উপজেলা পর্যায়ে পকেট কমিটির পাঁয়তারা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দুর্বলতাসহ নানান কারণ দেখিয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ৩ নেতা পদত্যাগ করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা উত্তর জেলার ৯৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে গোলাম কিবরিয়া সরকারকে আহ্বায়ক এবং রবিউল মনির চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়। গত ১০ জুলাই ওই কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয় আহ্বায়ক কমিটি।
সাংগঠনিক কার্যক্রমে চরম ব্যর্থতার দাবি তুলে কুমিল্লা উত্তর জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ ৭-৮ জন নেতা গত ১৭ জুলাই শুক্রবার রাতে তাদের দলীয় হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজুল হক গ্রুপে লিখিতভাবে বলেছেন, অদক্ষ-অযোগ্যদের কমিটির নেতৃত্বে আনা হয়েছে, যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়নি। একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এই বিতর্কিত আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান তিনি। আমার পদত্যাগের মাধ্যমে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জেলা কমিটির আরেক নেতা সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন মোল্লা জানান, ৬ মাস মেয়াদের কুমিল্লা উত্তর জেলা এনসিপি কমিটির দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। অথচ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে ও তৃণমূলকে উজ্জীবিত করার জন্য কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়নি জেলা কমিটি। কমিটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা পকেট কমিটি করার পাঁয়তারা করছে, উপজেলাগুলোতে সাংগঠনিকভাবে সফরের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাই আমি পদত্যাগ করেছি।
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে এনসিপির কুমিল্লা উত্তর জেলা কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া সরকার ও সদস্য সচিব রবিউল মনির চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।