Image description

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ আবার প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

নাটোরের এক সমাবেশ থেকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সংস্কারের ধীরগতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এত রক্ত দেওয়ার পরও দেশে আবারও চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং থানায় দাদাগিরি শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাটোরে এক পদযাত্রার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। নাটোর শহরের নিচাবাজার এলাকা থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মাদ্রাসা মোড়ের স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এটি শেষ হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারজিস আলম বলেন, আমরা ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এমন একটা বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেখানে বিগত দিনের জুলুম, নির্যাতন ও অপকর্ম আর সহ্য করতে হবে না। আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যেখানে সরকারি অফিস-আদালত মানুষের সেবার প্রধান আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে; যেখানে সব গণমাধ্যম জনগণের পক্ষে, রাষ্ট্রের পক্ষে ও ইনসাফের পক্ষে কথা বলবে।

সারজিস আলম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে হানাহানি বন্ধ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তারা আবারও চাঁদাবাজি, দখলবাজি আর থানায় দাদাগিরি শুরু করে দিয়েছে।

সমাবেশে বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি। সরকারি দপ্তরগুলোকে সাধারণ মানুষের সেবার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে কোনো শক্তির তাঁবেদারি না করে, জনগণের পক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে নেতারা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তভেজা আকাঙ্ক্ষাকে নস্যাৎ করার যেকোনো চেষ্টা ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুল মান্নাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদী সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ স্থানীয় নেতারা।