কক্সবাজারে পিকনিকে যাবেন বিএনপির সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী। চট্টগ্রামের স্টেডিয়াম পাড়ার দোকানে-দোকানে গিয়ে দিয়ে এসেছেন আমন্ত্রণপত্র। পিকনিকে তাদের সঙ্গে শরিক হতে বলেছেন। পিকনিকের খরচের জন্য দাবি করেছেন অনুদানও।
‘চাঁদাবাজির’ হাত থেকে রেহাই পেতে ব্যবসায়ীরা দ্বারস্থ হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানের। তার হস্তক্ষেপে আপাতত পিছু হটেছেন পিকনিকের আয়োজক নেতারা। সুফিয়ান বললেন, ‘আমরা যাচাইবাছাই করে দেখছি এরা কারা। আমাদের দলের কেউ হলে অবশ্যই অ্যাকশনে যাব।’
নগরীর কাজির দেউড়ির জেলা স্টেডিয়াম পাড়ায় রোদেলা বিকাল, রয়েল হাট, দারুল কাবাব, সাকুরা রেস্তোঁরাসহ বেশ কয়েকটি দোকানে আনন্দ ভ্রমণের এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এক রেস্তোঁরার কর্মকর্তা সাইনুল সাবের জানালেন, গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর কয়েকজন তরুণ দোকানে ঢুকে ক্যাশ ম্যানেজারের কাছে চিঠি দিয়ে আসেন। অনুদান নেওয়ার জন্য তারা আজ রোববার আবারও দোকানে যাবার কথা বলেন।
চিঠিতে আয়োজক হিসেবে ‘১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপি’র নাম ব্যবহার করা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য রাজু, রুবেল ও জালাল- এ তিনজনের মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, ২৫ জুন সকাল ৬টায় সিআরবি সাত রাস্তার মোড় থেকে তারা রওনা দেবেন। ২৭ জুন তাদের ভ্রমণ শেষ হবে।
এ বিষয়ে জানতে তিনজনের মোবাইলে কল করা হলেও সাড়া দেন শুধুমাত্র জালাল। নিজেকে চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দেওয়া জালাল আহমেদ অনুদান চাওয়ার দায় তুলে দিলেন জুনিয়র কর্মীদের ওপর। বললেন, ‘কয়েকজন ছোট ভাই আমাদের কাছ থেকে কয়েকটা আমন্ত্রণ পত্র নিয়েছিল। আমরা দলের সিনিয়র নেতাদের দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। তারা যে সেগুলো রেস্টুরেন্টে দিয়ে আসবে সেটা আমরা জানতাম না। এটা আসলেই একটা ভুল বোঝাবুঝি। এমপি সাহেব আমাদের ফোন দিয়ে বকা দিয়েছেন।’
চিঠিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করা হলেও মূলত ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা মিলে এ আনন্দ ভ্রমণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানালেন জালাল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও একবার স্টেডিয়াম পাড়ার দোকানগুলোতে চিঠি দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে জানালেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।