জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমাদের আলাদা দল থাকতে পারে, মত থাকতে পারে, কোনো বিষয় যুক্তি তর্ক হতে পারে, দলীয় প্রধান হিসেবে সেই যুক্তি তর্ক কিংবা কথার স্রোতে আপনারও গা ভাসাতে ইচ্ছাও হতে পারে! কিন্তু সবসময় আপনি সেটা করতে পারেন না। কারণ আপনি আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী।
বৃহপতিবার রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন,
‘জনাব তারেক রহমান, আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
আমাদের আলাদা দল থাকতে পারে, মত থাকতে পারে, কোনো বিষয় যুক্তি তর্ক হতে পারে, দলীয় প্রধান হিসেবে সেই যুক্তি তর্ক কিংবা কথার স্রোতে আপনারও গা ভাসাতে ইচ্ছাও হতে পারে! কিন্তু সবসময় আপনি সেটা করতে পারেন না। কারণ আপনি আমার দেশের প্রধানমন্ত্রী।
জীবনযাত্রায় আপনার simplicity, রাজনৈতিক পরিমিতিবোধ, জনসম্পৃক্ততা সহ আপনার অনেকগুলো বিষয়কে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি।
কিন্তু এই সময়ে আপনার মাধ্যমে হওয়া দুইটি বিষয় দৃষ্টিকটু লেগেছে। আমি সেগুলো বলতে চাই। কারণ আমরা প্রত্যাশা করি বর্তমান এবং আগামী বাংলাদেশে কোনো প্রধানমন্ত্রী পূর্বের রেখে যাওয়া অপ্রত্যাশিত দৃষ্টান্তগুলোর পুনরাবৃত্তি করবে না।
১. একাধিক জনসভায় লক্ষ মানুষের সামনে মঞ্চ থেকে আপনি যখন গুপ্ত গুপ্ত বলে একটা রাজনৈতিক দলকে ঠাট্টা মশকরা করেন তখন সেটা অশোভনীয় দেখায়। এতে আপনার বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে আরো উৎসাহ পায়। অনেকে লিমিট ছাড়িয়ে যায়। ফলে একটা পর্যায়ে গিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটা নষ্ট হয়ে তীব্র বিদ্বেষের রাজনীতি তৈরি হয়। যেটা আমরা প্রত্যাশা করি না।
২. সর্বশেষ দুই দিন আগে সংসদে প্রসঙ্গক্রমে বিরোধীদলের কিছু সংসদ সদস্য যখন বলে যে- তাদের ব্যাংকে ঋণ নেই, তখন আপনি তাদেরকে জমিদার বলে ঠাট্টা করেছেন! হয়তো আপনি ভেবেছিলেন আপনার সেই কথা দুজনের মধ্যেই থাকবে কিন্তু সেটা পাবলিক হয়ে যায়। কিন্তু instinctly ও এটা আপনার মধ্যে আসা উচিত নয় বলে আমরা মনে করি। যেখানে সংসদে আপনার মনোনীত এমন কয়েকজন সংসদ সদস্য আছে যারা জনগণের শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে ঋণখেলাপি হয়ে ওই সংসদে বসে আছে সেখানে পরোক্ষভাবে তাদের প্রমোট করা কোনভাবেই কাম্য নয়। তারা- না আপনার জন্য ভালো, না আপনার দলের জন্য ভালো, না এই দেশের জন্য ভালো। অন্যদিকে ঋণখেলাপি তো নয়ই বরং একজন সংসদ সদস্যের যদি কোন ঋণই না থাকে সেটাকে তো mockery করার কিছু নেই। ঋণ নেওয়া কিংবা ঋণখেলাপি হওয়া তো কোনো গর্বের বিষয় হতে পারে না।’
আমরা আশা করছি দল, মত, যুক্তি, তর্ক, আদর্শের বাইরে রাজনৈতিক পরিবেশ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যে সংস্কৃতি আমরা প্রত্যাশা করি, সেক্ষেত্রে আপনি এবং আপনার ক্ষমতাসীন দল নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবেন।