দীর্ঘ এক বছর পর কারামুক্ত হয়ে নিজ বাসায় ফিরেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ শহর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুঠিরে’ পৌঁছান।
সেলিনা হায়াৎ আইভীর কারামুক্তির খবরে রাত ১১টা থেকে তার বাড়ির সামনে স্বজন ও কর্মী-সমর্থকরা ভিড় করেন। দীর্ঘদিন পর আইভী বাসায় ফেরায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বাসায় পৌঁছানোর পর দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আইভী। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিচার বিভাগের প্রতি অসম্ভব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং সরকারের প্রতিও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমি চাই, সকলকে নিয়ে একটি মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো অনেক মায়েরা আছেন, তারা নিরপরাধ। আশা করছি, সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবে।
এদিকে আইভীর বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাতেই চুনকা কুঠিরের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে পুলিশ। আইভীর পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে আসা লোকজনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আইভীর খোঁজখবর নিতে আসছেন।
সরজমিন দেখা যায়, আইভীর বাসভবনের সামনে ও আশপাশের কয়েকটি স্থানে পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, এটি আমাদের নিজস্ব বিষয়। কেন লাগানো হয়েছে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিরাপত্তাসহ সার্বিক কারণে লাগানো হয়েছে। নজরদারির বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, আইভীর বিরুদ্ধে থাকা ১২টি মামলায় উচ্চ আদালতের দেয়া জামিন বহাল থাকার পর প্রয়োজনীয় যাচাই বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ই মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ের ৩টি হত্যা মামলা, ২টি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি একাধিকবার জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সর্বশেষ গত ৩০শে এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর তার মুক্তির পথ খোলে। সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০১১ সালে প্রথম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা শামীম ওসমানকে এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে আইভী মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি সব সময় নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।