Image description

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হচ্ছে না। সরকারের রাজস্ব পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্পদ কর (ওয়েলথ ট্যাক্স) চালুর প্রস্তাবও স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে জনগণের ওপর নতুন বোঝা না চাপাতে এবং করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগের বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় থাকলেও পরে তা বাদ দেওয়া হয়। অর্থনীতিবিদ ও কর বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের মত ছিল, এ ধরনের ব্যবস্থা কর পরিপালনকে নিরুৎসাহিত করে এবং সৎ করদাতাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের জন্ম দেয়। সরকারের নতুন অবস্থানের ফলে আসন্ন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার                কোনো বিশেষ সুবিধা বা কর অবকাশের বিধান থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায়সংগত কর সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের মাধ্যমে সৎ করদাতাদের প্রতি ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং কর প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে পলিসি একচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিলের সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের ব্যবস্থা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও কর পরিপালন জোরদারের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে। অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার কোনো সরকারি সুযোগ থাকা উচিত নয়। কারণ এটি করব্যবস্থার সততা ক্ষুণ্ন করে এবং সুস্থ করসংস্কৃতি গড়ে ওঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

তিনি মনে করেন, পূর্বে অঘোষিত কিন্তু বৈধ উৎস থেকে অর্জিত আয়কে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আনার সুযোগ রাখা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রচলিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত জরিমানা কর পরিশোধের মাধ্যমে সেই অর্থ বৈধ করার ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে। সম্পদ কর চালুর প্রস্তাবও আপাতত বাদ দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ প্রভাব মূল্যায়ন ছাড়া এ ধরনের নতুন কর আরোপ করা যাবে না। ওই কর কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশে অতীতেও সম্পদ কর প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একইভাবে প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এ করব্যবস্থা পরিত্যক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, সম্পদ করসংক্রান্ত বর্তমান খসড়া প্রস্তাব বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যথাযথ প্রভাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর বিভাগ নতুন প্রস্তাব প্রস্তুত করতে পারে। সরকার ব্যক্তি ও করপোরেট করব্যবস্থার জন্য পাঁচ বছরের একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছর বিদ্যমান করপোরেট করহার অপরিবর্তিত থাকবে। পঞ্চম বছরে সামান্য কর হ্রাস করা হবে। পাশাপাশি সমন্বয় বা ফেরতের সুযোগ ছাড়া কোনো ন্যূনতম কর উৎসে কেটে রাখার ব্যবস্থা থাকবে না। তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ করুক বা লোকসান, তাদের ন্যূনতম কর দিতে হয়। এমনকি লোকসান হলেও সেই কর ফেরত পাওয়া যায় না। আগামী অর্থবছর থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক লোকসানের মুখে পড়লে পরিশোধিত করের অর্থ ফেরত বা সমন্বয়ের সুযোগ পাবে।