Image description

বাংলাদেশি রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক দীর্ঘমেয়াদী এবং উদ্বেগের বিষয় হলো রাজনৈতিক বিরোধিতার ভাষা হিসেবে অশ্লীলতা এবং ব্যক্তিগত কুৎসার ব্যবহার। গত কয়েক দশকে বিশেষত ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলে আদর্শিক সংঘাতের স্থান দখল করেছে ব্যক্তিগত আক্রমণ, যেখানে নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রায়শই লিঙ্গভিত্তিক প্রতিহিংসার প্রধান লক্ষ্যে পরিণত হন। এই প্রেক্ষাপটে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, যিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি, একটি কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার জীবন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কেবল একটি পরিবারের ইতিহাস নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে অশ্লীলতার বিবর্তন, ডিজিটাল আইনের প্রয়োগ এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে বিদ্যমান কাঠামোগত অন্তরায়গুলোর একটি বাস্তব প্রতিফলন।

জাইমা জারনাজ রহমানের পরিচয় মূলত বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক ধারার একটির উত্তরাধিকারী হিসেবে। ১৯৯৫ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা জাইমা তার শৈশব থেকেই রাজনীতির অস্থির আবহাওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। তার রাজনৈতিক বংশলতিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি এমন এক পরিবারের সদস্য যারা বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছেন।

তার দাদা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং দাদি বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে তার নানা মাহবুব আলী খান ছিলেন সাবেক নৌবাহিনী প্রধান এবং তার রক্তধারায় মিশে আছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর মতো কিংবদন্তি নেতৃত্বের ঐতিহ্য। ২০০১ সালের নির্বাচনে প্রথমবার দাদির সাথে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জনসম্মুখে আসা জাইমা ২০০৮ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সাথে লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থেকে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার নাম সবসময়ই আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে তার বাবার পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা তাকে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় করে তোলে। তবে এই যাত্রাপথটি ছিল অত্যন্ত বন্ধুর, বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অশ্লীল আক্রমণের কারণে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অশ্লীলতার একটি চরমতম উদাহরণ হলো ২০২৬ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তির বিতর্কিত মন্তব্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে তারা জাইমা রহমান সম্পর্কে যে ধরনের কুরুচিপূর্ণ, বর্ণবিদ্বেষী এবং যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেছে, তা কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং সাধারণ মানবিক সৌজন্যবোধকেও পদদলিত করে। এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল নিছক রাজনৈতিক বিরোধিতাকে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং একজন তরুণ ব্যারিস্টারকে তার পারিবারিক পরিচয়ের কারণে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করা।

এই ঘটনার মূল বিষয়গুলো হলো: নারীববিদ্বেষী প্রচারণা, বর্ণবাদ ও শ্লেষ, ডিজিটাল মিডিয়ার অপব্যবহার। তাদের ওই কর্মকা- কেবল জাইমা রহমানের ব্যক্তিগত মর্যাদাহানি করেনি, বরং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানকেও আঘাত করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তীব্র গণঅসন্তোষের মুখে পড়েছে ইসলামপন্থী দলের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে অশ্লীলতা যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা খোদ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভাবমূর্তিকেও কলঙ্কিত করে। বিশেষ করে জাইমা রহমান নিজে তখন রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকা সত্ত্বেও তাকে প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে, যা মূলত তারুণ্য ও আগামীর নেতৃত্বের প্রতি এক ধরনের মানসিক সন্ত্রাস।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অশ্লীলতার প্রসারে ডিজিটাল মাধ্যমগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ফেসবুক, ইউটিউব এবং অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে রাজনৈতিক কুৎসা ছড়ানোর উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন যে, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তার মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিবর্তে প্রায়ই ঘৃণ্য বক্তব্য (ঐধঃব ঝঢ়ববপয) এবং রাজনৈতিক চরিত্র হননের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্ষেত্রে বিশেষ করে নারীদের লক্ষ্য করে যে ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই ‘মর্যাদার লড়াই’ হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পরিচিতি পেয়েছে, যা একটি অত্যন্ত নেতিবাচক সংস্কৃতি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রধান আইন গত কয়েক বছরে আলোচিত হয়েছে আর তা হলো সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ (ঈচঙ) ২০২৫। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি কিছুটা মানবাধিকার বান্ধব করার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি ‘সাইবার বুলিং’-কে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা জাইমা রহমানের মতো ভিকটিমদের সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে। তবে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এ ‘অশ্লীলতা’ এবং ‘পর্নোগ্রাফি’ শব্দগুলোর যথাযথ সংজ্ঞা না থাকায় তা বিচারক বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যক্তিগত নৈতিকতার ওপর নির্ভর করতে পারে, যা আবারও রাজনৈতিক অপব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। জাইমা রহমান তার বিভিন্ন বক্তৃতায় এই অস্পষ্টতার সমালোচনা করেছেন এবং আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব আচরণবিধির ওপর জোর দিয়েছেন।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতিতে তাদের প্রতিনিধিত্ব এবং কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। এর একটি প্রধান কারণ হলো রাজনৈতিক অশ্লীলতা এবং ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ বা চরিত্র হনন। যখন জাইমা রহমানের মতো উচ্চ শিক্ষিত এবং রাজনৈতিক পরিবারের একজন সদস্যকে কুরুচিকর আক্রমণের শিকার হতে হয়, তখন সাধারণ পরিবারগুলো তাদের মেয়েদের রাজনীতিতে পাঠাতে ভয় পায়। রাজনীতিকে ‘নোংরা’ পেশা হিসেবে দেখার যে মানসিকতা আমাদের সমাজে রয়েছে, তা মূলত এই ধরনের অশ্লীলতার কারণেই স্থায়ী রূপ পেয়েছে। জাইমা রহমানের মতে, ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান নারী হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন এখনো একটি মরীচিকা। তিনি ২০২৬ সালের এক সেমিনারে উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র কেবল সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে হয় না, বরং নারীর প্রকৃত কর্তৃত্ব এবং নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করে। তার ভাষায়, রাজনীতি এখনো নারীদের জন্য অন্যতম একটি ‘বর্জনমূলক ক্ষেত্র’ (ঊীপষঁংরড়হধৎু ঋরবষফ)। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এই পরিস্থিতি উত্তরণে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গির প্রস্তাব করেছেন। তিনি মনে করেন, কেবল আইন করে অশ্লীলতা দূর করা সম্ভব নয়, বরং সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান যেভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তা মোকাবিলায় বিদেশের নারী রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা হতে পারে। উন্নত বিশ্বের নারীরা এ ধরনের পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কেবল আইনি লড়াই নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। বিদেশের নারীদের সেই দৃষ্টান্তগুলো হলো: ১. আইনি প্রতিকার ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: উন্নত বিশ্বে, বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায় কোনো নারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল মন্তব্য করাকে কেবল ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ নয়, বরং ‘ক্রিমিনাল অফেন্স’ হিসেবে দেখা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের নারী সংসদ সদস্যরা যখনই অনলাইনে লিঙ্গবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তারা তৎক্ষণাৎ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তা নিয়েছেন এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় এনেছেন। জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেও বিদেশে প্রচলিত এই ‘জিরো টলারেন্স’ বা অপরাধীর প্রতি আপসহীন মনোভাবের প্রয়োগ বাংলাদেশে অত্যন্ত জরুরি।

 ২. দলমত নির্বিশেষে সংহতি প্রকাশ: বিদেশে দেখা যায়, একজন নারী রাজনীতিবিদ যখন অশ্লীলতার শিকার হন, তখন তার নিজের দল তো বটেই, এমনকি কট্টর বিরোধী দলের নারী ও পুরুষ সদস্যরাও সেই অশ্লীলতার বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রতিবাদ করেন। তারা মনে করেন, নারীর মর্যাদা রক্ষা করা রাজনীতির ঊর্ধ্বে। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন বা ফিনল্যান্ডের সানা মারিন যখনই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন, পুরো রাজনৈতিক সমাজ তার পাশে দাঁড়িয়েছে। জাইমা রহমানের প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধেও বিদেশের মতো এমন সর্বদলীয় প্রতিবাদের সংস্কৃতি বাংলাদেশে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ৩. প্রচারণাকে শক্তিতে রূপান্তর (জবপষধরসরহম ঃযব ঘধৎৎধঃরাব): বিদেশের অনেক নারী নেত্রী অশ্লীল আক্রমণকে ভয় না পেয়ে বরং সেই আক্রমণগুলোকেই জনসমক্ষে তুলে ধরে আক্রমণকারীদের মুখোশ খুলে দেন। তারা প্রমাণ করেন যে, যারা ব্যক্তিগত কুৎসা রটায়, তারা আসলে যুক্তি ও আদর্শের লড়াইয়ে পরাজিত। জাইমা রহমানও বিদেশের এই সাহসী দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অশ্লীলতাকে উপেক্ষা না করে বরং তার বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আইনি অবস্থান নিয়ে এক নতুন ধারার রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ৪. টেক জায়ান্টদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা: বিদেশে নারীরা ফেসবুক, টুইটার (ঢ) বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্য করেছেন যাতে নারীবিরোধী বা অশ্লীল কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।

 তারা আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার হয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করেছেন। জাইমা রহমানের ওপর হওয়া আক্রমণের ক্ষেত্রেও বিদেশের নারীদের মতো প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার দাবি তোলা সময়ের দাবি। ৫. সমাজতাত্ত্বিক প্রতিরোধ: বিদেশের নারীরা শিখিয়েছেন যে, অশ্লীলতা কেবল আইনের মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক বয়কট। যারা অনলাইনে অশ্লীল কথা বলে, সমাজ তাদের ‘নেতা’ হিসেবে নয় বরং ‘অপরাধী’ হিসেবে গণ্য করে। বিদেশের এই সামাজিক সচেতনতা আজ বাংলাদেশে জাইমা রহমানের মতো ভিকটিমদের সুরক্ষায় বড় উদাহরণ হতে পারে। মূলত বিদেশের নারীরা প্রমাণ করেছেন যে অশ্লীল আক্রমণ দিয়ে মেধাবী নেতৃত্বকে থামিয়ে রাখা যায় না। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান যেহেতু বিদেশের উন্নত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ দেখে এসেছেন, তাই তিনি সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি সংস্কারে বিদেশের নারীদের মতোই এক আপসহীন ও আদর্শিক নেতৃত্ব দিতে পারেন।

বলাবাহুল্য, রাজনীতিতে অশ্লীলতা কেবল জাইমা রহমান বা জিয়ার পরিবারের ওপর আক্রমণ নয়, এটি বাংলাদেশের পুরো রাজনৈতিক কাঠামোর এক গভীর অসুখ। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ওপর হওয়া আক্রমণগুলো আমাদের শিখিয়েছে যে, একজন নারীকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে যখন ব্যক্তিগত কুৎসার আশ্রয় নেওয়া হয়, তখন তা কেবল সেই ব্যক্তির নয়, বরং পুরো জাতির নৈতিক ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দেয়। আগামীর বাংলাদেশে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার লড়াই হবে না, বরং তা হবে মেধা, শিষ্টাচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালার লড়াই। জাইমা রহমান তার বংশীয় ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে সেই নতুন ধারার রাজনীতির নেতৃত্ব দিতে পারেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার বর্তমান অবস্থান এবং অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তার সরব হওয়া নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিকে যদি সত্যিই মেধাভিত্তিক এবং নিরাপদ করতে হয়, তবে জাইমা রহমানকে কেন্দ্র করে অপপ্রচারগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বের প্রশ্ন। অশ্লীলতার অবসান ঘটিয়ে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করাই হোক বাংলাদেশের আগামীর লক্ষ্য।