প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কুটক্তিকর বক্তব্যের দুঃখ প্রকাশ করলেন জাগপার সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান।
শনিবার পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপির কিছু সংখ্যক কর্মী “কুলাঙ্গার” শব্দের অর্থ ঠিক মত উপলব্ধি করতে পারেন নাই।
কুলাঙ্গার শব্দের অর্থ:
কুল (বংশ) + অঙ্গার (কলঙ্ক) = বংশের কলঙ্ক। কুলাঙ্গার (বিশেষ্য) হলো এমন ব্যক্তি যার কুকর্মের ফলে তার বংশ কলঙ্কিত বা অপমানিত হয়।
সম্ভবত “কুলাঙ্গার” শব্দের অর্থ না বুঝার কারনে বিএনপি কিছু কর্মীদের মাঝে এতো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
তারপরেও যেহেতু বিএনপি কর্মীরা “কুলাঙ্গার” শব্দ ব্যবহার করার জন্য রাগ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন তাই আমি বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আর “কুলাঙ্গার” শব্দটি ব্যবহার করব না বলে কথা দিচ্ছি।
রাশেদ প্রধান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই আমার বক্তব্যে বারবার বলেছি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আপসহীন বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নাই। জনাব তারেক রহমান তার পিতা-মাতার আদর্শে বর্তমান বিএনপি পরিচালনা করেন না। তিনি পিতা মাতার সম্মান নষ্ট করেছেন, তাদের অপমান করেছেন।
তিনি বলেন, বুধবার এক আলোচনা সভায় আমার দেওয়া বক্তব্যে আমি একই কথা বলেছি। আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অতীতে অসংখ্যবার দেওয়া বক্তব্যে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যে বড় রকমের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীতের বক্তব্যের সাথে ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যর পার্থক্য অথবা নতুনত্য একটি মাত্র শব্দ, সেটি হচ্ছে- “কুলাঙ্গার”।
আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের বিএনপি নয়। যেটা তিনি নির্বাচনের পরে জুলাইয়ের সাথে বেইমানি করে প্রমাণ করেছেন।
আমার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং, আমার কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করেছেন। সেটা করার সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার তাদের আছে। আমি সরকারপন্থি নেতাকর্মীদের সাধুবাদ জানাই।
কিন্তু শুক্রবার সকালে আমার বাসভবনের সামনে সরকারপন্থি ও বিএনপি সমর্থকগোষ্ঠী যেভাবে বাসভবনকে অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টি করেছে হতবাক করার মতই।
রাশেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুথানের সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পঞ্চগড় জেলায় জাগপা কার্যালয় হামলা ও ভাংচুর করেছিল। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম গতকাল শুক্রবার বিকালে পঞ্চগড়ে ছাত্রদল এবং যুবদলের মিছিল থেকে প্রায় ২০০-২৫০ জন নেতাকর্মী সেই আওয়ামী সন্ত্রাসী কায়দায় পঞ্চগড় জেলা জাগপা কার্যালয়ে হামলা এবং ভাংচুর করেছে।
আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশে আর কোন মব কালচার থাকবে না। তারেক রহমান দেশে আসার আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের ব্যাঙ্গাত্তক চিত্র শেয়ার করে বাকস্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আমি তারেক রহমান ও সালাহউদ্দিন আহমেদের কথার প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় আছি।
সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান দেশবাসীর নিকট কিছু তথ্য তুলে ধরেন-
১/ আমি যেই রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছি তা শুধুমাত্র আমার বক্তব্য অথবা দলীয় মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার বক্তব্য। এর সাথে আমাদের ১১ দলীয় ঐক্যের কোন সম্পর্ক নাই। অতয়েব আমার বক্তব্যকে জামায়াত অথবা ১১ দলের বক্তব্য হিসেবে যারা প্রচার করছেন তারা ভুল করছেন।
২/ আমাকে বিব্রত করার লক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অতি উৎসাহী বিএনপি সমর্থকেরা আমার ফোনে সুমধুর মিষ্ট ভাষায় বকাঝকা দিচ্ছেন। একই সাথে নানাবিধ পন্থায় আমাকে হত্যার হুমকি প্রয়োগ করছেন। জুলাইগণঅভ্যুথান পরবর্তী বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতার এতো চমৎকার উদাহরণ আমরা আশা করি নাই। আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বিএনপি সমর্থকদের বলতে চাই, জুলাই গণঅভ্যুথানে আমার ১৯ তারিখ মৃত্যু হতে পারত। আমি আল্লাহ প্রদত্ত দ্বিতীয় জীবন যাপন করছি। মৃত্যু ভয়ে আমি রাজনীতি করি না। মহান রাব্বুল আলামিন যে দিন যে সময়ে আমার মৃত্যু নির্ধারণ করেছেন তার ১ সেকেন্ড আগে অথবা ১ সেকেন্ড পরে আমার মৃত্যু হবে না।
৩/ রাজনীতির সাথে সংযুক্ত না থাকার পরেও শুধুমাত্র আমার সহধর্মিণী হওয়ার অপরাধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমার পরিবারের মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে, যা একটি গোষ্ঠীর রুচিবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৪/ আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম দাদা পাকিস্তান আমলের স্পিকার মুসলিম লীগ নেতা গমীর উদ্দিন প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ আওয়ামীলীগ, বিএনপিসহ কোন সরকারের আমলে তার নামে এই ধরনের কোন অপবাদ কেউ দেয় নাই।
৫/ আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম পিতা জাগপা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে রাজাকার বলা হচ্ছে। অথচ ইতিহাস বলে শফিউল আলম প্রধান ৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানানোর এই মিথ্যা চক্রান্ত নিন্দনীয়।
৬/ আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমার মরহুম পিতা জাগপা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানকে মহসিন হলে সংগঠিত ৭ খুনের হত্যাকারী বলা হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অসংখ্য বর্ষীয়ান বিএনপি নেতাদের মুখে পাবলিক মিটিং এ আমরা শুনেছি এটা একটা মিথ্যা অপবাদ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এর ৬৪ জন দুর্নীতিবাজের নামের তালিকা প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে ৭ খুন সংগঠিত হয় এবং শফিউল আলম প্রধানকে আসামী করা হয় মুজিব সরকারের নির্দেশে। শফিউল আলম প্রধান সেসময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আর সভাপতি ছিলেন বর্তমান বিএনপি সরকারের সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী। আমি বিএনপি সমর্থকদের বিনয়ের সাথে অনুরধ করব, আমার মরহুম পিতাকে আওয়ামী কায়দায় খুনি বলার আগে আপনাদের নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর কাছে প্রকৃত ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য। ওনাকে খুনি বলাটা তো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সিদ্ধান্তকে অসম্মান করা।
ঢাকাটাইমস