Image description

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে সুরুজ মিয়া নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্যানেল চেয়ারম্যান বানানোর নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন কাজেও হস্তক্ষেপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত সুরুজ মিয়া উপজেলার আরুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় ইউপি সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সুরুজ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চালিয়ে আসলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না।

আরুয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য সোনিয়া আক্তার পলির অভিযোগ, তার দুটি রাস্তার কাজে বাধা দিয়ে সুরুজ মিয়া চাঁদা দাবি করেন। না দেওয়ায় হুমকি দিয়ে বলেছেন— ইউনিয়নের যেকোনো উন্নয়ন কাজে তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে এবং কাজের অংশ দিতে হবে।

এছাড়া হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ হওয়া ১২টি টয়লেট জোরপূর্বক নিয়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বিতরণ করার অভিযোগও করেন এ ইউপি সদস্য।

 

৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সোহেল রানা জানান, তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই লাখ টাকার চুক্তি করেন সুরুজ মিয়া এবং অগ্রিম এক লাখ টাকা নেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুত কাজ না করে উল্টো হুমকি দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি টয়লেট পাইয়ে দিতে ৩ হাজার টাকা, ভিজিএফ কার্ডের জন্য ২ হাজার টাকা এবং মামলা থেকে অব্যাহতির নামে ২৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

হালিমা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, তার মাধ্যমে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত সুবিধা দেওয়া হয়নি। পরে তার কথা না মানায় তাকে সংগঠন থেকে মৌখিকভাবে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউসুফ অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে মামলা থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে ২৯ হাজার টাকা নেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এছাড়া মন্দির উন্নয়ন কাজেও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিনোদ হালদার বলেন, সরকারি বরাদ্দে চলমান মন্দির উন্নয়ন কাজে গিয়ে সুরুজ মিয়া নিজেকে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দাবি করে কাজ বন্ধের হুমকি দেন।

নিজ দলের নেতাকর্মীরাও তার কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ। আরুয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. রাশেদ জানান, মিথ্যা অভিযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেও হুমকি দেওয়া হয়।

এদিকে, আরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো দলের ওপর পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুরুজ মিয়া দাবি করেন, তিনি এসিল্যান্ডের নির্দেশেই কাজ করছেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাইম বলেন, ‘তিনি গত ১ ফেব্রুয়ারি ওই ইউনিয়নের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন এবং কোনো বেসরকারি ব্যক্তিকে সরকারি দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই।’ সুরুজ মিয়ার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে, গত বছরের ২৩ জুলাই ভিজিডব্লিউবি অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১২ জন নারী শিবালয় উপজেলার তৎকালীন ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।