বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিচার বিভাগ পৃথককরণ মামলার বাদী মাসদার হোসেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
মাসদার হোসেন বলেন, ক্ষমতার জোরে কলমের খোঁচায় এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাতিল করা হচ্ছে, যা আসলে বিচার বিভাগকে পদদলিত করার শামিল।
তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে জনমত জরিপ করা হলে ৯৯ শতাংশ মানুষ সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত দেবে। গুমের শিকার হয়ে যারা একসময় মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, তারাই আজ সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন। তাদের কাছ থেকে গুমের সংজ্ঞা ঠিক করার পরামর্শ দেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৮ জন বিচারককে শোকজ করার তীব্র সমালোচনা করে মাসদার হোসেন বলেন, যেখানে বিচারকদের একটি আলপিনের প্রয়োজনেই সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়, সেখানে আইনমন্ত্রী কোন কর্তৃত্বে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই আন্দোলনকারীদের রক্তের ওপর এই মসনদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের ত্যাগের সঙ্গে বেঈমানি করা উচিত হবে না। গুটি কয়েক মানুষের চিন্তায় রাষ্ট্র পরিচালিত হলে তার ফল শুভ হবে না।
জনগণই একদিন বিপথগামী শক্তিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন ও ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনায় আরও কথা বলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম জজ ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মামলার বাদী হিসেবে বাংলাদেশে সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচারকদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তার দায়ের করা মামলার মাধ্যমেই দেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনে।
‘সরকার বনাম মাসদার হোসেন’ মামলার রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ এ মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে পৃথক করা এবং বিচারকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এ রায়ের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে দেশে কার্যকরভাবে বিচার বিভাগ পৃথক হয়।