Image description

পাবনার ঈশ্বরদীতে জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ইমরান হোসেন সোহাগ (২৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের চার দিন পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার বাদী হয়েছেন নিহত সোহাগের বাবা শহরের সাঁড়া গোপালপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ইমানুল প্রামাণিক। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। রোববার দিবাগত রাতে তিনি থানায় এজাহার দায়ের করেন। পরে ৬ এপ্রিল গভীর রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহাগকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে সাঁড়া গোপালপুর আখ সেন্টারের পাশে বন্ধু অন্তর হোসেন, শান্ত, রিশাদসহ কয়েকজনের সঙ্গে বসে সময় কাটাচ্ছিলেন সোহাগ। পরে তাঁদের অনেকেই সেখান থেকে চলে যান। রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় নাম উল্লিখিত আসামি ও দুর্বৃত্তরা গুলি করতে করতে সেখানে আসে এবং আশপাশের দোকানদারদের সরে যেতে বলে। পরে সাঁড়া গোপালপুর স্কুলের সামনে চা-স্টলসংলগ্ন একটি গলিতে সোহাগকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করে তারা। ঘটনাস্থলেই সোহাগের মৃত্যু হয়।

মামলার আসামিরা হলেন সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের মৃত কুরবান আলীর ছেলে মোহাম্মদ রাজন (২৪), মোহাম্মদ স্বপন (৪০), মো. সুমন (২৬), সাঁড়া গোপালপুর স্কুলের পেছনের বাসিন্দা শাজাহানের ছেলে মো. নয়ন (৩০), একই এলাকার মৃত আজাহারের ছেলে মো. শাহজাহান (৬৫), মো. স্বপনের ছেলে মোহাম্মদ সাজিম (১৯) এবং শাহজাহানের ছেলে মো. রুবেল (২৭)।

সোমবার বিকেল পর্যন্ত সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, ‘আলোচিত এই মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও তদন্ত কার্যক্রম রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এবং পাবনা জেলা পুলিশ সুপার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর স্কুলসংলগ্ন এলাকায় সহযোগীদের সঙ্গে বসে গল্প করার সময় হেলমেট পরিহিত একদল দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্যসচিব ও ছাত্রদল সদস্য ইমরান হোসেন সোহাগ। হামলাকারীরা কয়েকটি গুলি ছুড়ে স্কুলের পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে সোহাগ হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঈশ্বরদী শহরে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।