সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন–সংক্রান্ত প্রশ্নে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর জবাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মন্ত্রী ‘আগের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের মতই’ উত্তর দিয়েছেন। তার ভাষায়, যারা ‘টাকা লুণ্ঠন’ করেছে, তাদের দেওয়া কথাই মন্ত্রী বলেছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনাকালে বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন।
এর আগে নোটিশে বলা হয়, কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালীর সংযোগস্থলে অবৈধ ব্যারিকেড, কুমিল্লায় প্রবেশপথের টমসন ব্রিজসহ সাত স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিসলেন না থাকায় এলাকাটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
নোটিশের জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্পটি আগে থেকেই চলমান। এখন নকশা পরিবর্তন ও বাজেট সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দশ লেনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। সেখানে তিনটি আন্ডারপাস নির্মাণের কথা আছে, পাশাপাশি পদুয়ার বাজারে আরও দুটি আন্ডারপাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কিন্তু মন্ত্রীর এই জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
সম্পূরক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি প্রশ্ন করেছি, সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেখানে আন্ডারপাস কোথায় গেল? অনুমোদিত ওভারপাসটি কেন হলো না? ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিল ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময়। এর পরে এত লোক মারা গেল, কিন্তু একজনও ক্ষতিপূরণ পায়নি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, মন্ত্রী মহোদয় বললেন, ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে। এ রবীন্দ্র সংগীত বহু শুনেছি। আমাদের শান্তিমত মরতে দেন। উনার প্রতিটি কথা সচিবেরা যা বলে দিয়েছে… যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে তারা শিখিয়ে দিয়েছে, সেটা তিনি বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি।
জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পটি আগে থেকে চলমান আছে। আমরা শুধু নকশা পরিবর্তন করে, বাজেট সমন্বয় করে কাজ করছি। এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেন প্রকল্পের ওই অঞ্চলে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, মোড়গুলোতে প্রচুর যানবাহনকে ম্যানেজ করতে হয়। পূর্ববর্তী সময়ের প্রকল্পে যতটুকু সংশোধন করা দরকার, ততটুকু করতে পারছি, এর বেশি করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার নতুন এসেছে। সংসদ সদস্য আমাকে জ্ঞাত করেছেন। সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি। সেখানে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাব।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এসব পদক্ষেপে কি মনিরুল হক চৌধুরীর সমস্যা সমাধান হবে? আপনি হ্যাঁ, অথবা না বলুন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক হবে।