পাবনার ঈশ্বরদীতে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে হত্যার ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর একাধিক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দেন পিন্টু।
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ৫ আগস্টের পরে খালাস পাওয়া পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু তার ফেসবুকে লেখেন, ‘ঈশ্বরদীর রাজনীতির অভিশাপ নাড়া বাবলু পরিবার। ৯৩ সাল থেকে জ্বালাচ্ছে। নয় বার আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমাকে আর কিছু বলে দিতে হবে। আমি ডকুমেন্ট রেখে কথা বলি। ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে গেছে। ডু আর ডাই।
‘একটা লাশের বদলে দশটা লাশ চাই। মাফিয়া হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখেই তো লড়েছি। তখনই তো মরে গেছি। আজ নির্যাতন, হত্যা।
‘যেহেতু আমি দেশের বাইরে। ঈশ্বরদী থানার সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকলো, উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। আর এই হত্যার বিরুদ্ধে যা যা করার প্রয়োজন তাই করবেন, আমি না আসা পর্যন্ত। এটা আমার অনুরোধ আর নির্দেশ।
‘২০১১ সালে আওয়ামী লীগের স্পেশাল নিয়োগ ঈশ্বরদী থানার বর্তমান ওসি।‘ এই হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরদী থানার ওসি অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে উল্লেখ করে পিন্টু বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের কোনও পুলিশকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। এটা আজকে আবার প্রমাণ করলো।’
নিহত ইমরান হোসেন সোহাগ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং ঈশ্বরদী উপজেলা ‘জিয়া সাইবার ফোর্স’-এর সদস্যসচিব ছিলেন। তিনি পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ থেকে পৌনে ১১টার দিকে পৌর শহরের সাঁড়াগোপালপুর স্কুলের পাশে একটি চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন সোহাগ। এ সময় প্রতিপক্ষের কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহাগকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে ফেলে রেখে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, নিহতের মাথায় ধারালো ও ভারী অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।’
সার্বিক বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের সুপারিন্টেন্ডেন্ট (সুপার) আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে ক্রাইমসিন নিয়ে কাজ করছি। পুলিশকে হত্যার হুমকি দিয়ে ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি দেখছি।’
উল্লেখ্য, ঈশ্বরদীতে দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবীব ও জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ চলছে। গত ২৩ মার্চও দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছিলেন।
এই বিষয়ে জানতে জাকারিয়া পিন্টুর মোবাইল ফোনে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।