ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) পদ্ধতিতে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা ৬ মিনিটে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ওই পরীক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১১টা থেকে গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। সকাল ১১টা ৬ মিনিটে ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে সানজানা ইসলাম নামের এক পরীক্ষার্থী প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার প্রবেশপত্রে থাকা কেন্দ্রের নাম, রুম নম্বর ও ছবি দেখে কর্তব্যরত শিক্ষক, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটস সদস্যদের সন্দেহ হওয়ায় তাকে আটক করা হয়। তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই শেষে তার প্রবেশপত্রটি জাল প্রমাণিত হলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে প্রবেশপত্রটি জাল বলে শনাক্ত করে।
আটক ওই ভর্তিচ্ছুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নাম সানজানা ইসলাম। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে। তিনি এর আগে মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করেছেন। গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিতে তিনি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন না করে একটি স্থানীয় কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদন করেছিলেন। দোকানদারের কথা অনুযায়ী নাম, ছবি, অভিভাবকদের নামসহ অন্যান্য তথ্য সরবরাহ ও চাহিদামতো অর্থ প্রদান করলেও ওই কম্পিউটার দোকানদার তাকে প্রতারিত করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদ হাসান জানান, তার এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং আজকের প্রবেশপত্র যাচাই করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে তার প্রবেশপত্রটি জাল। তবে অন্য কোনো পরীক্ষার্থীর প্রক্সি হিসেবে পরীক্ষা দিতে আসার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি। তার এসএসসির ছবির সঙ্গে প্রবেশপত্রের ছবির মিল রয়েছে এবং তিনি নিজেই এখানে উপস্থিত। এছাড়া তার সঙ্গে কথাবার্তা বলে মনে হয়েছে, তিনিও প্রতারণার শিকার। তাই বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮২ অনুযায়ী তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার মর্মে মুচলেকা নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।