বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে মূল লড়াই জমে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে।
এবার বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জামায়াতের জেলা আমির আবিদুর রহমান সোহেল। নির্বাচনে জয় নিয়ে উভয় পক্ষই আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রচারণায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।
বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন এখানকার ভোটাররা। তারেক রহমান উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে বগুড়াবাসীর এ ঋণ শোধ করতে চান। রাজনৈতিক কারণে আসনটি তিনি ছেড়ে দিলেও বগুড়াবাসীকে ছেড়ে যাননি। বগুড়ার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য তিনি তার প্রতিনিধি হিসেবে উপনির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানেই উন্নয়ন ও দেশ পরিচালনার জন্য তারেক রহমানকে সমর্থন দেওয়া।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আবেগে পড়ে এক বুক আশা নিয়ে বগুড়ার ছেলেকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই বগুড়ার এ আসনটি ছেড়ে দিয়ে ভোটারদের হতাশ করেছেন। ভোটাররা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কোনো আবেগের ফাঁদে তারা আর পা দেবেন না। একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ, সৎ মানুষের শাসন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বগুড়া গড়ার লক্ষ্যে ভোটাররা এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের কাছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান আবিদুর রহমান সোহেল। দলীয় প্রধানের বিপক্ষে লড়াই কঠিন ছিল উল্লেখ করে এবার জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে ভোটের সমীকরণ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভাবনা কিছুটা ভিন্ন। তারা বলছেন, দলীয় পরিচয়ের বাইরে জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী প্রার্থীকে বেছে নিতে চান।
এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১০ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। উপনির্বাচন উপলক্ষে দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচনে মোট তিনজন প্রার্থী থাকলেও মাঠে সক্রিয়তা বেশি দেখা যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের ঘিরে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাদের পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারণা চোখে পড়ছে। অন্য প্রার্থী বিডিপির আল আমিন তালুকদারের প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম।
ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই এবার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন প্রার্থীরা। সে কারণে প্রচারণার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করছেন তাদের কর্মী-সমর্থকেরা।