গতকাল ১ এপ্রিল দ্য ওয়াল নামে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তির ছবি যুক্ত করে দাবি করা হয়েছে, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশে সরকারি দফতরে সপ্তাহে দুই দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হচ্ছে।
কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে, দাবিটি সত্য নয়। প্রতিবেদনে সংযুক্ত বিজ্ঞপ্তিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
“বাংলাদেশে সরকারি দফতরে ২ দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম, দিনের আলোয় কাজ সারতে অফিস সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে” শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের আগামী ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি কর্মচারীরা সপ্তাহের দুদিন ওয়ার্ক ফর্ম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। বাকি তিন দিন অফিস খোলা থাকবে। এই তিন দিন হলো রবি, সোম ও মঙ্গলবার। বুধ ও বৃহস্পতিবার কর্মচারীরা কাজ করবেন বাড়ি থেকে। বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার।”
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, “বুধবার রাতে বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তাতে আরও বলা হয়েছে, যে তিন দিন সরকারি দফতর খোলা থাকবে সেই দিনগুলি অফিস শুরু হবে সকাল আটটায়। বন্ধ হবে বিকাল চারটায়। দিনের আলোতে অফিসের কাজ সারতেই এই নির্দেশিকা। তবে হাসপাতাল সহ জরুরি পরিষেবাগুলিতে এই নির্দেশিকা বলবৎ হবে না।”
এ ব্যাপারে জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ মানসুর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “এটা ভুয়া বিজ্ঞপ্তি। আমরা অলরেডি আজকে প্রেস রিলিজ দিয়েছি যে এটা একটা ভুয়া প্রজ্ঞাপন।”
এছাড়াও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করা এক প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, “বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কল্পে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন ও সপ্তাহে ০৩ (দিন) দিন অফিস পরিচালনা প্রসঙ্গে গত ০১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ০৫.০০.০০০০.১১০.২২.০৪৫.২৬.১২০ নম্বর স্মারকে একটি স্মারক পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে এ ধরণের কোনো পত্র জারি করা হয়নি। এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হলো।”
এছাড়াও সংযুক্ত বিজ্ঞপ্তিটি গুগলের সিন্থআইডির সাহায্যে যাচাই করে দেখা গেছে, এটি গুগল এআই প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পাদনা বা তৈরি করা হচ্ছে।