ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট, সংগ্রামের বাস্তবতা, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং ব্যক্তিগত বেদনা নিয়ে কথা বলেছেন।
জুমা জানান, জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ তার জীবনকে আমূল বদলে দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে আন্দোলনের সামনের সারির নেতৃত্বে আসার পেছনে রয়েছে রাজপথের সহিংসতা, সহযোদ্ধাদের মৃত্যু এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন, আগে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেও নেতৃত্বে আসার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত বাস্তবতা’ আমাকে সামনে আসতে বাধ্য করেছে। এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং ঐতিহাসিক দায়িত্ব।
জুমার মতে, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। হাদি ছিলেন এমন এক নেতা যিনি সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন, যা আধিপত্যবাদী শক্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
তার অভিযোগ, বিভিন্ন মহল থেকে আগেই হাদিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয়।
হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও তথ্য দেওয়ার পরও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বাদীপক্ষকে কিছু জানানো হচ্ছে না।
জুমা বলেন, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাদের কাছ থেকেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেয়েছে—যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। এতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ন্যায়বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন জুমা। তার ভাষ্য, সহযোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, যার ফলে তিনি আহত হন।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের একটি অংশ নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়।
নিজের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও অপপ্রচারের কথাও তুলে ধরেন জুমা। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিকৃতভাবে প্রচার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এসব তাকে দমাতে পারেনি বলে জানান তিনি। যত বাধা এসেছে, ততই আমার অবস্থান দৃঢ় হয়েছে, বলেন জুমা।
শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ‘নারীবিদ্বেষী’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে জুমা বলেন, হাদি নারী-পুরুষ সবার স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অধিকারকে সম্মান করতেন।
ঈদ প্রসঙ্গে জুমা জানান, এটি আনন্দের নয়, বরং গভীর বেদনার সময়। গত বছরের স্মৃতি এবং হাদির অনুপস্থিতি তাকে মানসিকভাবে নাড়া দিচ্ছে।
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য একটাই—হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাহস হারাবেন না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান—এটাই আমাদের লড়াইয়ের মূল শক্তি।