Image description

Sabina Ahmed (সাবিনা আহমেদ)

২০১৫ সালে চায়নার সাথে চুক্তি করে ইরান প্রথম বেইডু-২ (BeiDou-2) তার মিলিটারিতে ঢোকানো শুরু করে। তখন থেকেই মিসাইল আর ড্রোনের গাইডেন্সে তারা পরীক্ষা করে দেখেছে – পশ্চিমের জিপিএসের বদলে চায়নার বেইডু অনেক বেশি নির্ভুল আর নিরাপদ। ২০২১ সালের চায়না-ইরানের বড় কৌশলগত চুক্তির পর ইরান ধীরে ধীরে দেশের ভেতর থেকে আমেরিকান জিপিএস সিগন্যাল ফেজ আউট করতে শুরু করে।
 
তারপর আসে ২০২৫ সালের ২৩ জুন। ইসরায়েল-আমেরিকার সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের ঠিক পরেই ইরান সারা দেশে আমেরিকান জিপিএস সিগন্যাল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সামরিক আর বেসামরিক – সবকিছু এখন শুধু চায়নার বেইডু-৩ (BeiDou-3) সিস্টেমে কানেক্টেড। ইরান এটাকে বলছে “ডিজিটাল স্বাধীনতা”। যা তাদের আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসার বড় একটা পদক্ষেপ।
বেইডু জিপিএসের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। বেইডু-৩-এর মিলিটারি সিগন্যালে (B3A) আছে ফ্রিকোয়েন্সি হপিং আর Navigation Message Authentication (NMA)। এর মানে হলো – জ্যাম করা বা ফেক সিগন্যাল (স্পুফিং) দেওয়া প্রায় অসম্ভব। মিলিটারি অ্যানালিস্ট Patricia Marins (bne IntelliNews) বলেছেন: “Unlike the civilian-grade GPS signals that were paralysed in 2025, BDS-3’s military-tier B3A signal is essentially unjammable.”
 
চায়নার ৫০+ স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক জিপিএসের চেয়ে অনেক বেশি অ্যাকুরেট – সেন্টিমিটার লেভেল পর্যন্ত। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারে (জ্যামিং) এটা অনেক সেফ। এই সুইচের কারণে এই যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে। না হলে মিসাইল-ড্রোনকে অনেক বেশি অন্ধ হয়ে কাজ করতে হতো।
 
ইরানের এই চাইনিজ সিস্টেম ব্যবহারের কারণে আমেরিকা-ইসরায়েল অসুবিধায় পড়েছে। আমেরিকা-ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল শত্রুর জিপিএস জ্যামিং। আগের যুদ্ধে, ২০২৫-এর ১২ দিনের যুদ্ধে, তারা সহজেই ইরানের মিসাইল-ড্রোনের গাইডেন্স নষ্ট করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার বেইডুতে সুইচ করায় সেই অস্ত্র আর কাজ করছে না। ইরানের মিসাইল এখন খুব এক্যুরেটলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে। Al Jazeera বলছে: “Iran may be using China’s highly accurate BeiDou… to target Israel and US military assets.” ফলে US-ইসরায়েলের সকল এয়ার ডিফেন্স, যেমন আয়রন ডোম, অ্যারো, ডেভিডস স্লিং ইত্যাদি, অনেক চাপে পড়েছে।
 
ইরান আরও একটা বড় সুবিধা পেয়েছে বেইডুর শর্ট মেসেজ সার্ভিস থাকায়। জিপিএস শুধু অবস্থান দেখায় – কোনো কথা বলতে পারে না। কিন্তু বেইডুর শর্ট মেসেজ সার্ভিস (SMS) একদম আলাদা। এর মাধ্যমে কমান্ড সেন্টার থেকে ড্রোন বা মিসাইলকে উড়ন্ত অবস্থায়, প্রায় 2000 কিলোমিটার পর্যন্ত মেসেজ পাঠিয়ে দিক বদলানো যায়। যুদ্ধের সময় সেল নেটওয়ার্ক জ্যাম হলেও কমান্ড-কন্ট্রোল চালু থাকে। এটা ইরানকে দিয়েছে বড় সুবিধা – আইআরজিসি এখনো পুরোপুরি কানেক্টেড। ফলে তারা ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া আর লেবাননের হেজবল্লাহর সাথে রিয়েল টাইমে কো-অর্ডিনেট করে হামলা চালাতে পারছে। এই কানেক্টিভিটি না থাকলে হয়তো এর মধ্যেই ইরানের যুদ্ধের গতি থেমে যেত বা সিজফায়ারে রাজি হয়ে যেত।
 
এই সুইচ শুধু টেকনিক্যাল নয় – এটা একটা বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন। আমেরিকার জিপিএসের “গ্লোবাল ডমিন্যান্স” এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। ২০২৬-এর এই যুদ্ধ প্রমাণ করছে, আজকের যুদ্ধ আর শুধু ফায়ার পাওয়ারের উপর নির্ভর করে না। জিপিএস যেখানে একটা সাধারণ ২-ডি ম্যাপ, বেইডু সেখানে একটা স্মার্ট ম্যাপ – যেখানে ওয়াইফাই না থাকলেও মেসেজ যায়। ইরানের এই বেইডু সুইচ তাদের অস্ত্রকে আরও স্মার্ট, সেফ আর নির্ভুল করেছে।
 
US এখন নতুন করে চিন্তা করছে – এই “আনজ্যামেবল” সিস্টেমের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়বে।