ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিপুল ভোটে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পূর্ণ আধিপত্য বিস্তারের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় নির্বাচনের সেই ভূমিধস বিজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জেলার ৭টি উপজেলা পরিষদেই অনেক আগেভাগে একক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি জেলা জামায়াতের আমীর ও নির্বাচন বিভাগীয় দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রতিটি উপজেলাতেই চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলটির হেভিওয়েট ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠ নিজেদের দখলে রাখার কৌশল নিয়েছে তারা।
ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ হাসানকে প্রার্থী করা হয়েছে। তার সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়বেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাজিয়া সুলতানা। তালা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা নায়েবে আমীর ডা. মাহমুদুল হক। তার সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাহেরা খাতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
কলারোয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওমান গণি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা কামারুজ্জামান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাহফুজা বেগমকে নিয়ে নির্বাচনী প্যানেল সাজানো হয়েছে। আশাশুনি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে সাবেক এমপি মাওলানা রিয়াছাত আলীর পুত্র মাওলানা নূরুল আবছার, ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট আব্দুস সোবহান মুকুল ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শরিফা মনির মনোনয়ন পেয়েছেন।
সুন্দরবন উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নায়েবে আমীর মাওলানা মঈনুদ্দীন মাহমুদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রভাষক নূরুন্নাহার ইতিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দেবহাটা উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়েছে জেলা সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলমকে। তার সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদে হাফেজ ইমদাদুল হক ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাসরিন সুলতানা নির্বাচন করবেন। এছাড়া কালীগঞ্জ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়বেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান। এই উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক আব্দুর রউফ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়নাব পারভীনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সাতক্ষীরা জেলা ঐতিহাসিকভাবেই জামায়াতের শক্তিশালী ঘাঁটি। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেলার সবকটি আসনে জয় পাওয়ায় দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। জাতীয় পর্যায়ের সাফল্যের পর স্থানীয় সরকারেও কোনো পদ ছাড়তে নারাজ তারা। তাই আগেভাগে রণকৌশল সাজিয়ে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, অভিজ্ঞ ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ব্যক্তিদেরই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা এখন থেকেই সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে তাদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবেন, যা ভোটের লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হতে সুবিধা দেবে।
তিনি আরও জানান, মনোনয়ন ঘোষণার পাশাপাশি প্রার্থীদের জন্য প্রচারণার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল জানান, মনোনীত প্রার্থীদের প্রচারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট উপজেলা সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অনলাইন, ডিজিটাল মাধ্যম এবং ফেস্টুন-ব্যানারের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।