গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (জিসিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠজন আকবর হোসেনকে আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে প্রশাসকের স্বাক্ষর থাকলেও জিসিসি সেটা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি পিয়নের মাধ্যমে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও পিআরএল স্থগিত রেখে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান আকবর হোসেন। তবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের সরকারের সময়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়। তবে তার চাকরি না থাকলেও করপোরেশনের ২০১ নম্বর কক্ষে নিয়মিত বসেন। বিভিন্ন ফাইলের কাজও তিনি করেন।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জিসিসিতে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয় শওকত হোসেন সরকারকে। নতুন প্রশাসক নিয়োগ হওয়ার পর আকবর হোসেন তার সিন্ডিকেটের হাত ধরে ফেরার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসাবে প্রশাসক চুক্তিভিত্তিক এক বছর নিয়োগের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন। ১ মার্চ প্রশাসকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। সেই চিঠি মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে গ্রহণও করেছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দুদক ৭৫০০ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলা করেছে। জাহাঙ্গীরের পুরো সময় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন আকবর হোসেন। পরে জাহাঙ্গীরের মা জায়েদা খাতুন দায়িত্ব পালনকালে আকবর হোসেন পিআরএলে এলে চলে যান। জাহাঙ্গীরের বিশ্বস্ত হওয়ায় পিআরএল থেকে ফেরত এনে তাকে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে দুর্নীতি রাজত্ব কায়েম করেছিল। এ দীর্ঘ চাকরি জীবনে প্রভাব বিস্তার করে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলেছিলেন আকবর হোসেন। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপসহ নানা অভিযোগও রয়েছে। তার নিয়োগ হলে প্রশাসকের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে সিটি করপোরেশনে পূর্বের মতো অনিয়ম দুর্নীতির বিস্তার ঘটবে।
গাজীপুর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান বলেন, বিষয়টি আমারও নজরে এসেছে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি জালিয়াতি করা হয়েছে। তবে চিঠির স্মারক সিটি করপোরেশন থেকেই দেওয়া হয়েছে। আমরা খোঁজ নিয়ে যিনি স্মারক ফেলেছেন আশরাফ নামে এক কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আশরাফ আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, প্রকৌশলী আকবর তাকে একপ্রকার জোরপূর্বক কাজটি করিয়েছে।