Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন দলের মূল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। এর ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা থমকে গেছে। অবশ্য বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী অধিকাংশ সংগঠনের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ একই কমিটি বহাল রয়েছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যেও বাড়ছে হতাশা।

একই পরিস্থিতি মূল দল বিএনপিতেও। সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও এক দশকেও তা হয়নি। তবে এই সময়ে নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ। কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কেউ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। দলীয় নেতারা বলছেন, আপাতত সরকারের কার্যক্রম পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের চিন্তা রয়েছে দলটির। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর থেকেই অঙ্গসংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় দলীয় নেতারা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন। তাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার গঠনের পর আমরা নানা কাজে ব্যস্ত। সংসদীয় কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হওয়ার পর হয়তো সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য যুগান্তরকে জানান, আপাতত মূল দলের পুনর্গঠন বা জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা নেই। তবে অঙ্গসংগঠনের অনেক শীর্ষ নেতা এবং জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কেউ কেউ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে গেছেন। এখন অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্বিন্যাসের সময় এসেছে। নীতিনির্ধারণী মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিগ্গিরই কয়েকটি সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে।

সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা যান ৩০ ডিসেম্বর। তিনি টানা ৪১ বছর দলটির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি শক্ত হাতে দল পরিচালনা করেছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। দলের শীর্ষ পদে থেকেই প্রথমবার নির্বাচনে সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় এনে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারেক রহমান। এদিকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অথবা স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির পদ শূন্য হতে পারে-এমন আলোচনা রয়েছে বিএনপির মধ্যে। আবার তাদের মধ্যে কাউকে সংসদ উপনেতাও করা হতে পারে।

এ দুই পদে নিয়োগ হয়ে গেলেও স্থায়ী কমিটির পদ শূন্য হবে। এছাড়া সংসদের স্পিকার হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দলে তার কোনো পদ থাকছে না। সব মিলিয়ে স্থায়ী কমিটিতেও অন্যদের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি নির্বাহী কমিটিতেও কিছু পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ বছর না হলে আগামী বছরের শুরুতে দলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। এদিকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন নিয়েও আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঈদুল ফিতরের পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপি কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড।

২৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশনা দেন। সূত্র বলছে, ঈদের পর এ লক্ষ্যে কাজ শুরু করার কথা বলেছেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল-এই ৯টি হলো বিএনপির অঙ্গসংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি হয়নি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির প্রধান যুব অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতীদল, জাসাস, শ্রমিক দল ও মৎস্যজীবী দলের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান-দুজনই সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজীব আহসান বর্তমানে সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। শহিদুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য।

২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। সাম্প্রতিককালে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোয় সংগঠনের ভরাডুবি স্পষ্ট। ফলে সংগঠনটিকে পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে অনেক আগেই।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ১০ বছর একই কমিটি দিয়ে চলছে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধা দলের কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তিন বছর পরপর সংগঠনটির নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়েও নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং পরস্পরের দূরত্ব বেড়েছে।

২০১৪ সালের এপ্রিলে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে সংগঠনটির কমিটি গঠিত হয়। ২০১৬ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আর কোনো কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্য সচিব করে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে মারা যান রফিকুল ইসলাম। পরে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। এরপর আর কোনো কমিটি হয়নি।

আবদুর রহিম যুগান্তরকে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসাবে মৎস্যজীবী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে অকুতোভয় ভূমিকা রেখেছে। ২ জন নিহত হওয়া ছাড়াও এই সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত এবং হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। স্বৈরাচার পতনের পর প্রায় দেড় বছর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি না থাকা সত্ত্বেও মৎস্যজীবী দল অবিচ্ছিন্নভাবে বিএনপি ঘোষিত সব কর্মসূচিতে সফলভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। এ পর্যায়ে মৎস্যজীবী দলের সারা দেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বেগবান করতে এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি গঠন সময়ের দাবি।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মো. মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়।

এদিকে বিভিন্ন দিবস উদযাপনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কার্যক্রম। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ড. মামুন আহমেদ ও হেলাল খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্য সচিব করে ২০২১ সালের নভেম্বরে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও ওই কমিটি প্রায় ৫ বছর পার করছে।

এদিকে নির্বাচনের পর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অনেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন তারা।

নেতাকর্মীদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় একদিকে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেক পদবঞ্চিত কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই কমিটি দীর্ঘদিন থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা গেলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বাচনে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।