Image description

অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিএনপি এখন আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, যখন বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এ পর্যায়ে আসতে বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে অনেক নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। অনেকে চিরকালের জন্য গুমের শিকার হয়ে হারিয়ে গেছেন। তারা কেউ আর ফিরে আসবেন না। অনেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। জেল, জুলুম, মামলা-মোকদ্দমায় জর্জরিত হয়ে শত-সহস্র বিএনপি নেতাকর্মীর জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংস হয়ে গেছে; আয়-রোজগারের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। অনেকে নিজ বাসস্থানে থাকতে না পেরে ঢাকা শহরে এসে রিকশা চালানোর মতো কাজ করেছেন।

এত ত্যাগ ও কষ্টের পর যখন ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া যায়, তখন অবশ্যই ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করতে হবে। অর্জিত ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে হবে জনকল্যাণে। বিএনপি অনেক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেসব প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কাজকর্ম শুরু হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের জ্বালানি ব্যবস্থা- বিশেষ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ যে অবস্থায় রেখে গেছে, তারপর কেউ আশা করতে পারে না দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। অথচ জ্বালানি সংকটের ফলে কল-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, এমনকি শ্রমিক ছাঁটাই হচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ শতাংশের ওপরে যেতে পারছে না। ফ্যাসিস্ট আমলের পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও উন্নয়ন ঘটানো সহজ হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপিকে রাজনৈতিক মোবিলাইজেশনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষকে ধৈর্য ধারণের জন্য করজোড়ে আহ্বান জানাতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে, সমস্যাগুলো বিএনপি সৃষ্টি করেনি, তা করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার।

শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের ভেতরে অন্তর্ঘাত ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন। ভারত সরকারকে বুঝতে হবে এটি বাংলাদেশের কাছে আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। এর পাশাপাশি আমরা লক্ষ করছি, আওয়ামী লীগের কোনো কোনো মুখপাত্র ঘোষণা দিয়েছেন, একমাত্র গৃহযুদ্ধের মাধ্যমেই তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতির সমাধান আনবেন। বাংলাদেশের মানুষ জানে, তাদের কথিত সমাধান বাংলাদেশের জন্য আরও ভয়াবহ দুঃখ-দুর্দশা ডেকে আনবে। আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের কল্যাণ চায়নি। তারা ভারতের স্বার্থে ১৬ আনা কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপি নেতৃত্বকে জনগণের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে, আওয়ামী লীগের ঘৃণ্য প্রয়াস নস্যাৎ করে দিতে। বিএনপি সরকারকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নত করার জন্য সুচিন্তিত কৌশল নিতে হবে। ভারত যখন বাংলাদেশকে কোণঠাসা করার পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশকে বিশ্বের সর্বত্র নতুন বন্ধু ও মিত্র খুঁজে বেড়াতে হবে। কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজগুলো এগিয়ে নিতে হবে। দিন শেষে সংশোধনীর মাধ্যমে এমন একটি সংবিধান জনগণের হাতে তুলে দিতে হবে, যে সংবিধান দেশে ঐক্য, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে অবারিত করে দেয়।

ড. মাহবুব উল্লাহ : জাতীয় অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ