Image description


মোঃ শাহনেওয়াজ খান চন্দন

বিডিআর হত্যাকান্ড বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে আমরা দেখতে পাই যে বিডিআর সদস্যদের মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী তাদের অনেককেই মেরে ফেলা হয়েছে বা গুম করা হয়েছে। এই বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে হত্যাকান্ডের অব্যাবহিত পরে পিলখানায় কর্মরত ছিলেন, এমন অফিসারদের আমরা সাক্ষ্য নেয়া শুরু করি। তাদেরই সাক্ষে উঠে আসে জিয়াউল আহসান (বিডিআর হত্যাকান্ডের পরপরই র্যাব এ পদায়নকৃত) কিভাবে অন্তত একজন বিডিআর সদস্য, যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার সাক্ষী ছিল, তাকে আইন বহির্ভুতভাবে তুলে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। এরপরে যখন পিলখানায় কর্মরত সামরিক অফিসাররা ঐ বিডিআর সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজ করতে শুরু করে, তখন জিয়াউল আহসান তাদের একজনকে বলেন, "ওকে খুঁজতেসেন কেন? খুঁজবেন না, ও সুন্দরবনে মাছের পেটে আছে। ওরে টুকরা টুকরা করে ফেলে দেওয়া হইছে"। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় সে কেন এই কাজ করল, তার সরাসরি উত্তর ছিল, "নাম্বার ওয়ান এর আদেশে এই কাজ করা হইছে"।

গুম কমিশনও এই ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত করেছে বলে জানতে পারি এবং তারাও এই ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।

বিডিআর সদস্যরা কি ধরণের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী ছিল যার জন্য তাদের গুম করা হয় বা হত্যা করা হয়? এগুলো জানার জন্য আমরা সাজাপ্রাপ্ত/মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য যারা সরাসরি বিদ্রোহে অংশ নিয়েছে কারাগারে গিয়ে তাদের সাথে দীর্ঘসময় ধরে কথা বলেছি। মূলতঃ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন জাহাংগীর কবির নানক, মির্জা আজম, ফজলে নূর তাপস, সাহারা খাতুন, এরা যে বিদ্রোহ ও হত্যাকান্ড চলাকালীন অবস্থায় পিলখানার অভ্যন্তরে তৎপরতা চালাচ্ছিল, বিদ্রোহীদের হত্যা ও অন্যান্য ভয়ংকর অপরাধ করতে উসকানি দিচ্ছিল, হত্যাকারীদের পালানোর ব্যবস্থা করছিল----এসব নেতাদেরকে যেসব সৈনিকেরা দেখেছে, তাদের সাথে মিলে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করেছে--- পরবর্তিতে এসব সৈনিকদেরকেই গুম ও হত্যা করে আওয়ামী লীগ নেতাদের অপরাধ ধামা চাপা দেয়া হয়েছে। আর বিডিআর হত্যাকান্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা ও জঘন্য অপরাধ ধামা চাপা দেয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে জিয়াউল আহসানের মত অফিসার । এখান থেকেই সম্ভবত গুম/খুনের মত কাজে তার হাতেখড়ি এবং পরবর্তিতে সে হয়ে ওঠে আওয়ামী রেজিমের অনেক গুরুতর অপরাধের ঘুঁটি।

আমরা কারাগারে যখন জিয়াউল আহসানের সাক্ষ্য নিতে গেলাম, দেখলাম তিনি বেশ হাসিখুশি এবং আত্মবিশ্বাসী। রাজনৈতিক সরকার আসলে পাশা উলটে যাবে, আমরাই (কমিশনের সদস্যরা) দৌড়ের উপর থাকবো ইত্যাদি বললেন। শেখ হাসিনা/ আওয়ামী লীগও আবার যেকোন সময় চলে আসতে পারে, তখন আমরা কি করব সেসব ভাবতে পরামর্শ দিলেন। এবং দম্ভ নিয়ে বললেন, "লিখে দেন যে সব খুন আমিই করসি, আমি এসব কেয়ার করি না, আপনারা আমার কিছু করতেও পারবেন না"।

বিঃ দ্রঃ জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সাক্ষী গুম ও হত্যার অপরাধে জিয়াউল আহসানকে দোষি সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং শাস্তির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

মোঃ শাহনেওয়াজ খান চন্দন
সদস্য, জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন (বিডিআর হত্যাকান্ড বিষয়ক