Image description

ড. ইউসুফ জারিফ

ইসলামী ব্যাংক দখল শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাস বা ধ্বংস করার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি রাষ্ট্রের মাফিয়া শাসনব্যবস্থার একটি নির্মম উদাহরণ। ১৯৯০ উত্তর শাসনব্যবস্থায় ধনিক শ্রেণি বা নীতিবর্জিত ব্যবসায়ী মহল যে বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের দখল তার একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

মাফিয়া এলিট গোষ্ঠী কীভাবে রাষ্ট্র দখল করে, সেটি নিয়ে বিশ্বে অনেক গবেষণা হলেও বাংলাদেশে খুব বেশি গবেষণা হয়নি। বিশ্বব্যাংকের তিনজন গবেষক Joel S. Hellman& Geraint Jones & Daniel Kaufmann সোভিয়েত সময়ের ভূতপূর্ব দেশগুলো ও পূর্ব ইউরোপের স্বাধীন দেশগুলোর অন্তর্বর্তী অর্থনীতি পর্যালোচনা করে ২০০০ সালে State Capture বিষয়ে তত্ত্ব উপস্থাপন করে। তারা দেখিয়েছেন কীভাবে মাফিয়া অলিগার্করা রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে মিলে রাষ্ট্র ও জননীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশি গবেষক ড. মির্জা হাসান ও ড. সেলিম রায়হান বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এলিটদের পলিসি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে কাজ করেছেন (Navigating the Deals World : The Politics of Economic Growth in Bangladesh)। এলিট ক্যাপচার বা স্টেট ক্যাপচার একটি বৈশ্বিক প্রপঞ্চ হলেও বাংলাদেশে এর গভীরতা ও প্রভাব অনেক বেশি। জাতীয় সংসদে অলিগার্কদের প্রভাব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ১৯৯০-পরবর্তী সব সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে। অর্থাৎ অলিগার্ক ব্যবসায়ীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আইনপ্রণয়ন ও নীতিগ্রহণের সঙ্গে জড়িত হয়েছে। এটি সবচেয়ে আশঙ্কার জায়গা। জাতীয় সংসদ বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহি তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও ব্যবসায়ী ও অন্যান্য স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে এগুলো অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর পরবর্তী সংশোধন পাবলিক পলিসি বা আইনে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অনিয়ন্ত্রিত প্রভাবকে নির্দেশ করে।

ইসলামী ব্যাংক দখলের পর যে পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হয়, তাতে রাষ্ট্রের সবপর্যায়ের এলিটদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়। ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিচারক, সামরিক বাহিনীর জেনারেল, পুলিশ কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত আমলা—সবাইকে নিয়ে একটি এলিট অ্যালায়েন্স তৈরি করা হয়, যারা ইসলামী ব্যাংক দখলকে বৈধতা দেওয়ার জন্য কাজ করে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো সিভিল সোসাইটির সবচেয়ে প্রভাবশালী অংশ, যারা ইসলামবিদ্বেষী ও পাশ্চাত্যের সহায়তায় পরিচালিত, বছরের পর বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে ইসলামী ব্যাংক দখলের আদর্শিক বয়ান তৈরি করেছে। ফলে সিভিল সোসাইটির এ অংশটি প্রত্যক্ষভাবে ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব না নিলেও অন্যভাবে প্রভাব নিশ্চিত করেছে। ব্যাংক দখলকারী এলিট অ্যালায়েন্সের শ্রেণি চরিত্র বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায়ের নৈতিকতা সম্পর্কে আভাস পাওয়া যায়।

বিগত পঞ্চান্ন বছরে যেভাবে শাসনব্যবস্থা ও কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তাতে প্রতিনিয়ত নৈতিকতা ও জবাবদিহিতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এলিটরা মিলে মিশে সমাজ ও রাষ্ট্রকে দখল করেছে। ইসলামী ব্যাংকের দখল তাই ‘টিপ অব দি আইসবার্গ’—সামগ্রিক দখলের সামান্য প্রকাশ মাত্র। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সব সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে। যে এলিট অ্যালয়েন্সের কথা ওপরে বলা হয়েছে, তারা সব সেক্টরের দখলের সঙ্গে জড়িত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, জনশক্তি রপ্তানি, ওষুধশিল্প ও সরবরাহব্যবস্থা, বেসরকারি মেডিকেল শিক্ষা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, এমনকি সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যমের মালিকানা—সব ক্ষেত্রে অলিগার্ক-মাফিয়া চক্র ক্রিয়াশীল। তাই পুঁজি পাচার কোনো নির্দিষ্ট শাসনামল বা রেজিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। এটি সতত প্রবহমান। আমরা যদি মনে করি, শুধু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনামলে এলিটরা সবকিছু দখল করেছেন এবং পুঁজি পাচার করেছেন, তাহলে এটি একটি খুব ভুল অনুসিদ্ধান্ত হবে। যে শাসনব্যবস্থায় রাজনীতি ও ব্যবসা স্বার্থ একীভূত হয় এবং রাষ্ট্রের আমলাতন্ত্রসহ সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে নিয়োজিত করা হয়, সেখানে পুঁজি পাচার ও লুণ্ঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া।

আজ চারদিকে যে হাহাকার ও শৃঙ্খলাহীনতা—এগুলো একটি অনৈতিক শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক বহিঃপ্রকাশ মাত্র। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে আমরা সব প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে দখল এবং রাজনীতিকীকরণের চেষ্টা করেছি। ১৯৯০-এর পর এ প্রক্রিয়া ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে। রাজনীতিকীকরণ কৌশল (strategy of politicization) ব্যবসায়ী-অলিগার্ক এবং রাজনীতিবিদদের জন্য ইনসেনটিভ বা প্রণোদনা তৈরি করেছে। তাই রাজনীতিকীকরণের ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া থেকে শাসক শ্রেণির সরে আসার সম্ভাবনা নেই বললে চলে। কোনো দেশপ্রেমিক ও সৎ আমলা যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে চান, তাহলে তাকে সহজে রাজনৈতিকভাবে চিন্তিত করা হয় বা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। যার কারণে ওই আমলা দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখতে পারেন না। কাউকে কোথাও পদায়ন বা কাউকে কোনো পদ থেকে অপসারণে সরকারকে কোথাও কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। কেউ কোনো ব্যাখ্যা চাইতে পারেন না। এ ধরনের একটি মসৃণ পদ্ধতির মাধ্যমে রাজনীতিকীকরণ এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ভিকটিম করার ব্যবস্থা জারি রাখা হয়েছে। অসংখ্য মানুষের শাহাদতের পরিপ্রেক্ষিতে যে জুলাই বিপ্লব হলো, তার কোনো প্রভাব শাসনব্যবস্থায় দেখা যাচ্ছে না। কয়েক যুগ আগে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এমনকি যারা কখনো সিভিল সার্ভিসেও ছিলেন না, তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগে কোনো জবাবদিহির বিষয় নেই। সরকারি দল মনে করে তারা সবকিছু করতে সক্ষম। কোনো নৈতিকতানীতি বা দায়বদ্ধতার কিছু নেই।

তাই, ইসলামী ব্যাংকের দখল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি আমাদের রাজনৈতিক হারিকিরির বাস্তবতা। বিভাজনের রাজনীতি শাসকশ্রেণিকে রাষ্ট্র বা পাবলিক পলিসি দখলের সুযোগকে আরো সহজ করেছে এবং এর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী মক্কেল শ্রেণির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয় সুরক্ষার চেয়ে উপাচার্যের পদ দখল করাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা রাজনৈতিক মেরূকরণের কারণে এখন মক্কেলের চেয়ে বেশি কিছু নন। একইভাবে অবসরপ্রাপ্ত আমলা, প্রধান বিচারপতি/বিচারপতি, জেনারেল—সবাই ক্লায়েন্ট হিসেবে কিছু পদপদবি চান। সেটি কোনো কমিশন হোক বা এজেন্সি হোক। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠিত গবেষক উপাচার্যকে সরিয়ে শুধু দলীয় স্বার্থে দেশীয় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভকারী কোনো সাধারণ মানের প্রফেসরকে উপাচার্য পদে পদায়ন করলেও সমাজে কোনো প্রতিক্রিয়া হয় না। এমনকি ছাত্ররাও কোনো প্রতিবাদ করে না। বিভাজনের নির্মম রাজনীতি-নৈতিকতা ও যোগ্যতার বদলে নিজ বলয়ের লোককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। যার ফলে সমাজে নৈতিকতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ইসলামী ব্যাংক দখলের পর যে পরিচালনা বোর্ড গঠিত হয়, সেখানে সবাই পেশাগতভাবে উচ্চপদে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ছিলেন। কিন্তু কারো মনে সামান্যতম নৈতিক প্রশ্ন আসেনি যে এভাবে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা উচিত নয়। তারা এটাও বিবেচনা করেননি যে তারা সবাই একটি মাফিয়া লুটেরা চক্রকে সহায়তা করছে।

মাফিয়া রাজনীতি পরিকল্পিতভাবে সমাজে প্যাট্রন-মক্কেল রাজনীতি বজায় রাখতে চায়, যাতে সহজে জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এজন্য শাসক শ্রেণি কাঠামোগত সংস্কার না করে জনতুষ্টিবাদী কার্যক্রম গ্রহণ করে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সেবা খাতের কাঠামোগত সংস্কারের বদলে নামমাত্র সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিস্তৃতির মাধ্যমে জনগণকে নিয়ন্ত্রণের কাঠামোতে নিয়ে আসে। প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট সম্পর্ক, বিভাজনের রাজনীতি এবং গণপ্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনীতি ও প্রতিষ্ঠান দখল চলমান। তাই ইসলামী ব্যাংক দখল মাফিয়া-অলিগার্কনির্ভর রাজনীতির একটি প্যাটার্ন ও মডেল। যার কারণে সরকার বদল হলেও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে স্বজনতোষী ভর্তুকি চলমান থাকে এবং অর্থনীতির লাইফ-লাইন জনশক্তি রপ্তানিতে ন্যূনতম শৃঙ্খলা আনা যায় না। অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগত মানের বদলে দলীয় স্বার্থে উপাচার্য পরিবর্তন করাকে সংস্কার বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। আমলাতন্ত্রে মেধাবী ও সৎ কর্মকর্তার পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে অনুগত এবং নৈতিকভাবে দুর্বলদের জয় জয়কার হয়।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, বাংলাদেশে কি তাহলে সুশাসনের ভবিষ্যৎ নেই? এ প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর নেই। তবে সার্বিক লক্ষণ দেখে মনে হয় সুশাসনে উত্তরণ সহজ হবে না। যেসব দেশ সুশাসনে উন্নতি করেছে, তারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এগিয়ে গেছে। রাজনীতি শুদ্ধ না হলে সুশাসন অর্জন করা অসম্ভব। কারণ মন্দ শাসনও একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা। রাজনৈতিক প্রেষণা দিয়ে সমাজে মন্দ শাসন টিকিয়ে রাখা হয়। জুলাই বিপ্লব আশার আলো দেখায়, তবে কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। বিপ্লবোত্তর রাজনীতি এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ধারা তৈরি করতে পারেনি। তবে সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি। জাতীয় সংসদের বিরোধী দলে কিছু অর্গানিক নেতৃত্ব এসেছে; সমাজের প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে অনেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন। তবে তাদের সাফল্য নির্ভর করছে কতটা কার্যকরভাবে তারা সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তার ওপর। গণপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে যদি বিরোধী দল কিছু ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে কিছুটা অগ্রগতি হতে পারে।

পৃথিবীর অনেক দেশে সিভিল সোসাইটি সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু আমাদের প্রভাবশালী সিভিল সোসাইটি নেতারা মূলত পাশ্চাত্যের অনুগত হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে। সিভিল সোসাইটি কার্যক্রম অনেকের ক্ষেত্রে জীবিকা ও অর্থ-বিত্ত নিশ্চিতের কৌশল। ফলে তাদের পক্ষে কোনো সাহসী ভূমিকা গ্রহণ করা কঠিন হবে। অন্যদিকে তাদের অনেকে ক্ষমতাসীনদের কো-অপশন নীতির সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করে। তাই নির্মোহভাবেও তারা ভূমিকা পালন করতে পারবে না। এ ছাড়া পাশ্চাত্য অর্থনির্ভর সিভিল সোসাইটি সাধারণভাবে ইসলামবিদ্বেষী বিধায় তারা সমাজে মেরূকরণে ভূমিকা পালন করে। তাই তাদের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতারও সংকট আছে।

তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে কিছু আশার আলো দেখা যাচ্ছে। ছাত্রদের একটি অংশ দলীয় দাসত্ব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু তরুণ নেতৃত্ব জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। এরা যদি নৈতিকভাবে দৃঢ় থেকে জাতীয় কৃষ্টি ও পরিচয় এবং আশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সৎভাবে এগিয়ে যায়, তাহলে জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে সাড়া দেবে। এখানেই কিছু আশার আলো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির যে ইকো-সিস্টেম তৈরি হয়েছে, সেটি ভাঙা কঠিন। আমাদের আলেম সমাজ পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিতে পারত। কিন্তু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ এবং কোটারি নীতির কারণে তারা এখনো সমাজের মূল ধারা হতে পারেনি। বাংলাদেশে এখন একদল দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীর খুব প্রয়োজন, যারা তরুণদের গাইড করে সমাজ পরিবর্তনের মূল শক্তিতে পরিণত করবে।

 

লেখক : গভর্ন্যান্স ও পাবলিক পলিসি এক্সপার্ট, ইউরোপের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং একাধিক গবেষণা গ্রন্থের লেখক