আলফাজ আনাম
দেড় দশক পর বাংলাদেশ যেনো একটি স্বাধীন সার্বভৌম আত্নমর্যাদার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে পথ চলছে। জাতিসংঘ সাধারন পরিষদে সভাপতি নির্বাচিত হলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ মাসেই মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। এরপর তার চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন দিনের সফরে এখন ঢাকায়। সরকারের তিন মাসে এগুলো বড় আকারের কূটনৈতিক সাফল্য।
সর্বশেষ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট খুব স্বল্প সময়ের জন্য ২০১০ সালের ১৩–১৪ নভেম্বর ঢাকা সফর করেছিলেন। অনেকের হয়তো মনে নাই এদিন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিলো। পরের দিন তার সাথে এরদোয়ানের সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত থাকলেও তখনকার পরিস্থিতিতে তা বাতিল করা হয়। যতটুকু আভাষ ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আবার বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি হিসাবে বাংলাদেশের জয়ের পেছনে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হয়। মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ছাড়াও আফ্রিকা, বলকান অঞ্চল ও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের ওপর তুরস্কের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। যা বাংলাদেশের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বড় ভুমিকা রেখেছে।
বাংলাদেশের সাথে এখন চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সর্ম্পক ঘনিষ্ট হচ্ছে। এই স্বাধীন ও আত্নমর্যাদার পররাষ্ট্রনীতির সূচনা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান । বাংলাদেশের এই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ভারতের জন্য সবচেয়ে অস্বস্তির কারন হয়ে দাড়িয়েছে। এর প্রভাব দেখছি সীমান্তে। সীমান্তজুড়ে বাংলাভাষী মুসলমানদের পুশইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। পর্দার আড়ালে হয়তো আরো নানা ভাবে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
হাসিনার শাসনামলে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ছিলো অনেকেটা ভারতের এক্সটেনশন। বৈদেশিক সর্ম্পক বলতে আমরা দিল্লি ছাড়া আর কিছুই যেনো বুঝতাম না। জুলাইয়ে অভ্যুন্থান আমাদের আত্নমর্যাদা ফিরে পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এটি টিকে থাকবে জাতি হিসাবে আমাদের ঐক্যর ওপর। দেখলাম বিরোধী দলের নেতা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেছেন। এনসিপির নেতারাও হাকান ফিদানের সাথে সাক্ষাত করেছেন। পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দল যাতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে কেবল এই মর্যাদা ধরে রাখা সম্ভব হবে।
লেখক : সাংবাদিক