Image description
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের গ্যাস এবং জায়গা অবৈধভাবে ব্যবহার করে ‘ক্যাম্পাস ওয়েস্টিন’ নামে একটি বাণিজ্যিক দোকান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে। তবে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি, এই ব্যবসা তিনি নিজে নন, বরং অন্য তিনজন পরিচালনা করছেন।
 
শুধু তাই নয়, এই ব্যবসার খাতিরে হলের ভেতরে বহিরাগতদের রাখারও গুরুতর অভিযোগ এসেছে তার বিরুদ্ধে। এই ব্যবসার কারণে হলের ক্যান্টিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ডাইনিং-ক্যান্টিন এলাকায় চরম অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। ​দোকানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পাড়ায় ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে বলে জানা যায়। 
 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুসারে, সাইফুল্লাহর নির্দেশনা ও ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলের ভেতরে তিনজন বহিরাগতকে অবৈধভাবে রাখা হচ্ছে। হল সংসদের পক্ষ থেকে রান্নার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, এই দোকানটি সমাজসেবা সম্পাদক সাইফুল্লাহর সরাসরি নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল্লাহর কাছে হল সংসদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তার দাবি, এই ব্যবসা তিনি নিজে নন, বরং হোসেন, গাজী ওমর ফারুক ও ওয়াহিদ নামে অন্য তিনজন পরিচালনা করছেন।
 
হল সংসদের ভিপি সাদিক শিকদার বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমরা শুরুতে অবগত ছিলাম না; মাত্র গত দুই-এক দিন আগে জানতে পেরেছি যে এমন একটি ঘটনা ঘটছে। তিনি হলের গ্যাস এবং রান্নার সরঞ্জাম ব্যবহার করে খাবার তৈরি করে বাইরে বিক্রি করছেন। অধিকন্তু, তিনি তিনজন বহিরাগতকে দিয়ে রান্না করাচ্ছেন এবং তারা হলের বাবুর্চির রুমেই অবস্থান করছে। এই কার্যক্রম শুরু করার আগে তিনি আমাদের কিছু জানাননি; বরং নিজের ইচ্ছেমতোই সব চালাচ্ছিলেন। যখন আমরা বিষয়টি জানতে পারলাম, তখন তিনি কেবল প্রভোস্ট স্যারকে দায়সারাভাবে জানিয়েছেন যে তিনি সেখানে রান্না করছেন। 
 
হল সংসদের এজিএস মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন তার এসব কাজে ক্যান্টিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা সময়মতো খাবার পাচ্ছে না। এই ব্যবসার কারণে ক্যান্টিনের জায়গা দখল করা হচ্ছে, রান্নার ডেকচিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পুরো ক্যান্টিন অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে । হল সংসদের কাছে অভিযোগ আসার পর আমরা বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলাম। 
 
তিনি আরো বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, সেখানকার কর্মচারীরা স্বীকার করেছে যে সাইফুল্লাহই এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে । সাইফুল্লাহ নিজেও হল সংসদের একজন সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এ ব্যাপারে সংসদ বা প্রশাসন কাউকেই কিছু জানায়নি। যখন তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তখন সে তিনজনের নাম উল্লেখ করে বলেছে যে তারাই মূলত ব্যবসাটি পরিচালনা করছে । তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হলে সে দাবি করেছে যে সে নিজে সরাসরি এটি করছে না; বরং তার অধীনে তিনজন কর্মচারী এবং আমাদের হলের তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মাধ্যমেই সে এই কাজ করাচ্ছে। 
 
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ সাইফুল্লাহ বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আমাদের প্রভোস্ট স্যারের সাথে কথা হয়েছে এবং একটি মিটিংও হয়েছে। সেখানে এই ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত সেই তিনজন শিক্ষার্থীও উপস্থিত ছিল এবং তারা কথা বলেছে। প্রভোস্ট স্যার নিষেধ করার পর তারা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি গতকালই জানতে পেরেছি যে, আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। এরপর আজ আমি হোসাইন ও ওয়াহিদকে (যারা এটি করত) বলেছি যেন তারা এ বিষয়ে কথা বলে বিষয়টিকে পরিষ্কার করে। 
তিনি আরো বলেন,  আমি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, আমি এর সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নই। আসলে তারা আমার নামে সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি অভিযোগ তুলেছে। আজ আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমি হাউস টিউটরের সাথেও এ ব্যাপারে কথা বলেছি। হোসাইন ও গাজীও প্রভোস্ট স্যারের সাথে কথা বলেছে। আমি আবারও বলছি, কোনোভাবেই আমি এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত নই এবং এই ব্যবসাটি আমার নয়। 
 
এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রশক্তির সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি ।