Image description

আলফাজ আনাম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিদেশি শক্তির সরাসরি সমর্থনে একটি পুতুল সরকার গঠন করা হয়েছিল ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে, যা ওয়ান-ইলেভেনের সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের তুলনা করা হতো আফগানিস্তানের হামিদ কারজাইয়ের সরকারের সঙ্গে। দুটো সরকার ছিল পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতের মদতপুষ্ট। এই সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের সরাসরি হস্তক্ষেপের অবারিত সুযোগ তৈরি হয়। সেনাবাহিনীর সমর্থনে এ ধরনের একটি বিদেশি মদতপুষ্ট সরকার গঠনের জন্য নির্বাচিত সরকারের সময় থেকে ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিদেশি শক্তির যেমন সমর্থন ছিল, তেমনি দেশের তৎকালীন বিরোধী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, সেনাবাহিনীর একটি অংশ, কথিত সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের একটি অংশ এর সঙ্গে জড়িত ছিল। প্রতিটি অংশ পরবর্তী সময়ে তাদের কাজ ও কথার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দিয়েছে।

কথিত ওয়ান-ইলেভেনের আগে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পর্যন্ত একের পর এক সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি করার চেষ্টা চলে, যার ভয়াবহ পরিণতি ছিল ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডব। তৎকালীন বিরোধী দল সারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। আওয়ামী লীগের সে সময়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হুংকার দিয়েছিলেন, বঙ্গভবনের অক্সিজেন বন্ধ করে দেবেন। এই সহিংসতার পথ ধরে ঘোষিত নির্বাচন বাতিল করে ওয়ান-ইলেভেনের সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।

এই সরকারের ক্ষমতা গ্রহণে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় জাতিসংঘের একটি ভুয়া চিঠির মাধ্যমে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের লেখা চিঠিতে ঢাকায় অবস্থিত ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রেনেটা লক ডেসিলিয়েন নিজে এক প্যারা যোগ করেন। তাতে বলা হয়, সম্ভাব্য নির্বাচনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত হলে আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভূমিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই ভুয়া চিঠি দেখিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উদ্দিন আহমেদ বেসামরিক ব্যক্তিদের সামনে রেখে সেনা অভ্যুত্থান ঘটান। বাতিল করা হয় নির্বাচন। সেই সরকারের নাম দেওয়া হয় সেনা-সমর্থিত সরকার। দুনিয়াতে এই নামের অদ্ভুত সরকার আর কোনো দেশে গঠিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। কারণ গণতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক কিংবা রাজতান্ত্রিক—যে সরকারই থাকুক না কেন সেনাবাহিনী সেই সরকারের অনুগত থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

যাহোক, সেই সেনা-সমর্থিত সরকারের দ্বিতীয় প্রধান ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। নবম পদাতিক বাহিনীর জিওসি হিসেবে বঙ্গভবনে মইন ইউ আহমেদের ক্যুর সময় শক্তি প্রয়োগের ভয় তিনি দেখিয়েছিলেন। সেনা-সমর্থিত সরকার দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি করলে সেখানে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পান মাসুদ।

কথিত দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের জন্য গঠিত সেই কমিটির প্রধান কাজ ছিল রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে কারারুদ্ধ করা। রক্ষীবাহিনী থেকে সেনাবাহিনীতে আত্তীকরণ করা এই কর্মকর্তা যে শেখ হাসিনা ও ভারতের অত্যন্ত পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন, সেটি তার পরবর্তী তৎপরতায় আমরা দেখতে পাব।

সেনা-সমর্থিত এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রাজনীতি পরিশুদ্ধির প্রকল্প গ্রহণ করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’। আসলে এটি ছিল মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা, যার মূল লক্ষ্য জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে দুর্বল করা এবং খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। আমরা এর প্রমাণ পাই শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকে। তিনি ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে বলেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সব কাজের বৈধতা দেওয়া হবে। দুর্নীতিবাজ ও মহাচোরদের ধরতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে তাদের রেটিফাই করে দেওয়া হবে।

সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে আটকে রাখা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। অন্যদিকে সে সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলা হলেও তাকে গ্রেপ্তার না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এসব নিয়ে যখন তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, তখন শেখ হাসিনাকেও গ্রেপ্তার করা হয়; একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকেও।

তবে এ কথাও বলতে হবে, ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে বিএনপির ভেতরের বড় একটি অংশ জড়িত ছিল। সে সময় গোয়েন্দা সংস্থা, নির্বাচন কমিশন ও কথিত সংস্কারপন্থিরা মিলে আরেকটি বিএনপি গড়ে তুলেছিলেন। অবশ্য সেই সংস্কারপন্থিরা এখন সরকারের ড্রাইভিং সিটে। বিএনপি বারবার দলের ভেতর থেকে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে; ভবিষ্যতে যে হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বিদেশি সমর্থনপুষ্ট ওয়ান-ইলেভেনের এই চক্রান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম সে সময় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চরিত্রহননমূলক নানা ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করত। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আনা না হলেও তার পুত্র তারেক রহমানকে দেখানো হয় একজন মাফিয়া চরিত্রের ব্যক্তি হিসেবে। তাকে তুলে ধরা হতো এমন এক ব্যক্তি হিসেবে, যিনি শুধু দুর্নীতিই করেননি, খুনের সঙ্গে জড়িত। একটি ইংরেজি দৈনিকের ‘ইট ওয়াজ আ হাওয়া ভবন প্লট (It was Hawa Bhaban plot)’ নামে প্রতিবেদনে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের সংশ্লিষ্টতা দেখানো হয়। এছাড়া একই ইংরেজি পত্রিকায় ‘ক্রাউন টু ক্রাইম (Crown to Crime)’ শিরোনামে ধারাবাহিক কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ রকম এক প্রতিবেদনে বলা হয়—

His mother Khaleda Zia heading the government, Tarique soon turned his Hawa Bhaban as an alternative power house, dictating state affairs from there.

He found a state minister for home in Lutfozzaman Babar who had a murky past and popularly known as Casio Babar because of his alleged link to smuggling of watches. He had his trusted ‘young men’ as state and deputy ministers and commanded an army of sycophants who swarmed around him in Hawa Bhaban. They knew where the power lay.

Simultaneously, Tarique cobbled around him a group of curious people such as Giasuddin Mamun, his old time buddy along with Ruhul Quddus Dulu, Nadim Mustafa, Aminul Huq and Alamgir Kabir among a few. These political leaders from the northern districts had deep links to Islamic militants in the region and echoed the political vision of Tarique. Tarique found them to be a valuable weapon against the liberally-branded Awami League.

But Mamun stood for something else. This crafty man knew how to spin money from every deal and that exactly matched Tarique's craving for wealth.

The message went to the business world as well—if you want to do any business, you better get blessings of the Hawa Bhaban.

The Daily Star 10 October 2018

(তার মা খালেদা জিয়া সরকারপ্রধান থাকায় তারেক রহমান ‘হাওয়া ভবন’-কে একটি বিকল্প পাওয়ার হাউসে পরিণত করেন। সেখান থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলো পরিচালনা করতে শুরু করেন।

তিনি লুৎফুজ্জামান বাবরকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন, যার অতীত ছিল ধোঁয়াশাপূর্ণ। ঘড়ি চোরাচালানের সঙ্গে কথিত সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ‘ক্যাসিও বাবর’ নামে পরিচিত ছিলেন। তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার বিশ্বস্ত কিছু ‘তরুণ’ প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী। চাটুকারদের এক বিশাল বাহিনী সবসময় হাওয়া ভবন ঘিরে রাখত। তারা জানত, প্রকৃত ক্ষমতার উৎস কোথায়।

একই সঙ্গে তারেক রহমান গিয়াসউদ্দিন মামুনের মতো তার পুরোনো বন্ধু এবং রুহুল কুদ্দুস দুলু, নাদিম মোস্তফা, আমিনুল হক ও আলমগীর কবিরের মতো কিছু সন্দেহজনক মানুষকে নিজের চারপাশে জড়ো করেন। উত্তরাঞ্চলের এই রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ওই অঞ্চলের ইসলামি উগ্রবাদীদের গভীর যোগসূত্র ছিল। তারা তারেকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটাতেন। উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাদের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন তারেক। তবে মামুনের ভূমিকা ছিল ভিন্ন। এই ধূর্ত লোকটি জানতেন, কীভাবে প্রতিটি লেনদেন থেকে টাকা বের করে আনতে হয়, যা তারেকের অর্থলিপ্সার সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছিল। ব্যবসায়ী মহলেও এই বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল—‘যদি ব্যবসা করতে চান, তবে অবশ্যই হাওয়া ভবনের আশীর্বাদ নিতে হবে।’)

সেনা-সমর্থিত কথিত এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কাজ বা মূল গন্তব্য ছিল একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ভারতের পছন্দমতো একটি সরকারকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ঠিক সেই কাজটি হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে একটি অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এর আগে বাংলাদেশের সিভিল ও মিলিটারি ব্যুরোক্রেসির ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে ভারত। এই কর্তৃত্ব এতটাই সুদৃঢ় ছিল যে, ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি তার ‘কোয়ালিশন ইয়ার’ বইয়ে লিখেছেন, সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ তার কাছে চাকরির নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন। এ সময় সেনাবাহিনীতে ভারতীয়করণের অংশ হিসেবে তিনি যে ঘোড়া আমদানি করেছিলেন, তা ধীরে ধীরে সমরাস্ত্র আমদানিতে রূপ নিয়েছিল। সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেছেন, ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অফিস করতেন।

বিদেশি সমর্থনপুষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও বেসামরিক আমলাতন্ত্রের যোগসাজশের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়। এই নিপীড়নমূলক ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের যারা ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিলেন, তাদের প্রধান চরিত্রের একটি ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। সেনা-সমর্থিত সরকারের দেড় বছরের মাথায় ২০০৮ সালের জুনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে বাংলাদেশের হাইকমিশনার করে পাঠানো হয় অস্ট্রেলিয়ায়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে সেই দায়িত্বে রাখে। কারণ হাসিনা তার অবদান ভুলে যাননি, বরং তাকে আরো বড় প্রতিদান দিয়েছেন। অবসরের সময় হয়ে গেলে তার চাকরির মেয়াদ ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর ঢাকায় একটি পাঁচতারা হোটেল ব্যবসা শুরু করেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পাশাপাশি তিনি শুরু করেন জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা। ২০১৮ সালে বিনা ভোটের নির্বাচনে তিনি এমপি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। হাসিনা তার সে আশাও পূরণ করেন। হাসিনার নির্দেশে তিনি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দলটির মনোনয়নে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এখন প্রশ্ন হলো, ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের প্রধান জেনারেল মইন ও ফখরুদ্দীন আহমদরা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। জেনারেল মাসুদ গ্রেপ্তার হলেন, অন্যদের কী হবে? সে সময় নির্যাতন-নিপীড়নে যারা সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন কিংবা নিপীড়নে ইন্ধন জুগিয়েছিলেন, তারা কি বিচারের বাইরে থাকবেন? গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হলেও যারা সেই শাসনের ভিত্তি রচনা করেছিলেন, তাদের তো অন্তত জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। সেই সাহস কি নির্বাচিত সরকার দেখাতে পারবে? যদি না পারে, তাহলে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে ফ্যাসিবাদী নিপীড়নমূলক শাসন হয়তো আবারও ফিরে আসবে।

লেখক: সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ