রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তির জন্য ইউক্রেনকে কঠিন এক শর্ত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্সের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কিয়েভকে বলেছে, তারা যদি ডনবাস শহর পুরোপুরি রাশিয়ার হাতে তুলে দেয়, তবেই কেবল তারা কিয়েভকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ‘বর্তমানে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বেশি মনোযোগী হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাচ্ছেন দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। এজন্য এই যুদ্ধ শেষ করতে তিনি রাশিয়ার বদলে ইউক্রেনের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করছেন।’
জেলেনস্কির মতে, ডনবাস থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা কেবল ইউক্রেন নয়, বরং পুরো ইউরোপের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। কারণ, এতে ওই অঞ্চলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো রাশিয়ার দখলে চলে যাবে।
রয়টার্স এ বিষয়ে বক্তব্য চাইলে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।
গত জানুয়ারিতে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা গ্যারান্টিসংক্রান্ত নথি প্রস্তুত রয়েছে। তবে গত মঙ্গলবার মিয়ামিতে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের পর তিনি জানান, এই চুক্তিতে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়ে গেছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনে এর সরবরাহ বজায় রাখায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। যদিও তিনি বলেছেন, বর্তমান সরবরাহ চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। রাশিয়ার অব্যাহত বোমা হামলার জবাবে কিয়েভ এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে দূরপাল্লার মিসাইল ও ড্রোন তৈরির চেষ্টা বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট।