ঢাকার গুলশান, বনানীর মতো সিলেটের হাউজিং এস্টেট। প্রবাসী শহরের অভিজাত এলাকা এটি। এমন ছিনতাইয়ের ঘটনা হাউজিং এস্টেটের ভেতরে কখনোই ঘটেনি। যা ঘটে গেল গত মঙ্গলবার দুপুরে। ছিনতাইয়ের ভিডিও ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও চিহ্নিত হয়নি ছিনতাইকারীরা। আর এ চিহ্নিত না হওয়াটাই সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিরাজ করছে অস্বস্তি। ভয়, আতঙ্ক ঢুকে গেছে অভিজাত এলাকার মানুষের মধ্যে। প্রশ্ন হলো- ছিনতাই করলো কারা? পাশের সিসিটিভি’র ভিডিও পর্যালোচনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। ভিডিওতে দেখা গেছে- তিনটি মোটরসাইকেলে আসে হেলমেট পরা ৬ যুবক। সবার পরনে ছিল শার্ট-প্যান্ট। প্রথমে সিএনজি অটোরিকশাকে দাঁড় করায় একটি মোটরসাইকেল। এরপর পিছন থেকে আসে আরেকটি। ঘটনার সময় দু’টি মোটরসাইকেলে ৪ জন দাঁড়িয়ে থাকে সামনে।
আর মহিলার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে মূল ঘটনাকারীরা উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করে। সামনের দু’টি মোটরসাইকেল সামন দিয়েই চলে যায়। বিভিন্ন তরফ থেকে একাধিকবার ভিডিও পর্যালোচনা করলেও ঘটনাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যে প্রবাস ফেরত একজনের সঙ্গে ভিডিওতে থাকা এক ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে- ওই ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। তবে এখনই পুলিশ তাকে ধরছে না। সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে মূল ঘটনাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সময় নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন- ছিনতাই হয়েছে হাউজিং এস্টেটের দুই নম্বর লেনে। সিএনজিতে থাকা যে মহিলা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন তার ব্যাগে ছিল ১৫ হাজার টাকা ও চেক বই সহ কিছু কাগজপত্র। তার বাসাও ছিনতাইয়ের স্পটের খুব কাছে। সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাসায় ফেরার পথে তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি এয়ারপোর্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে; ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভয় ঢুকেছে ভুক্তভোগী ওই মহিলার মধ্যে। তিনি ঘটনার পর থেকে বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। ঘটনায় হাউজিং এস্টেটের বাসিন্দারা চিন্তিত বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা ও নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী কয়েস। তিনি গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ঘটনায় অবশ্যই আমরা চিন্তিত।
এ কারণে ঘটনার পরপরই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ কমিশনারকে দিয়েছি। কমিশনার ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করেছেন। তিনি বলেন- অতীতে হাউজিং এস্টেট এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেনি। দিন-দুপুরে হাউজিং এস্টেটের মূল গলির ভেতরে এমন ঘটনায় সবাই চিন্তিত। পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসবে। অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে মাঠে কাজ করছে পুলিশের একাধিক ইউনিট। এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোবাশ্বির হোসেন জানিয়েছেন- পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। যারা ছিনতাই করেছে তাদের চেহারা শনাক্ত করা গেলেও কোথায় থাকে সেটি চিহ্নিত করা যায়নি। তিনি বলেন- প্রবাস ফেরত কয়েকজন ব্যক্তিও রয়েছেন নজরদারীতে। যারাই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান- ওসি।
এদিকে- অভিজাত এলাকার ছিনতাইকারীরাও অভিজাত বলে ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন- যারা ছিনতাই করেছে তারা নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে বলে মনে হয় না। পরনের কাপড় দেখে মনে করা হচ্ছে ছিনতাইকারীরাও মধ্যবিত্ত পরিবারের হতে পারে। রমজানের আগে এয়ারপোর্টকেন্দ্রিক চোরাই স্বর্ণ চোরাচালানের একটি চালান ছিনতাইয়ের ঘটনায় খাসদবির গ্রুপের কয়েকজন সদস্যের নাম এসেছিলো। তারা এলাকায় পরিচিত মুখ। ওই সময় তাদের কর্মকাণ্ড এলাকায় বিতর্কিত হওয়ার কারণে ওই গ্রুপের কর্মীরা নীরব রয়েছে। ওই গ্রুপ ছাড়াও চৌকিদেখি, বাদাম বাগিচা, সুবিদবাজারকেন্দ্রিক অপরাধ নেটওয়ার্কের দিকে নজর রাখছে পুলিশ। রমজানে ওইসব এলাকায় কয়েকজন যাত্রীর মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পুলিশ নীরব থাকায় এবার দিন-দুপুরে সশস্ত্র অবস্থায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলো।