Image description

কক্সবাজারে নতুন নির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে গেছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এছাড়া ৫০ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শগ্রামে এন আলম নামের সদ্য নির্মিত পাম্পটিতে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে গ্যাস লিকেজের কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহত ৯ জনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে বার্ন ইউনিট না থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পাম্পটি থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে যায়। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়। পরে আতঙ্কিত লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি দুটি বসতবাড়ি ও স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল সংলগ্ন আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল বলম, সাইফুল ইসলামসহ অনেকে অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘ছড়িয়ে পড়া এলপি গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধের চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে। অন্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’