Image description

ব্যাংক কিংবা সরকারি ওয়েবসাইট নয়, এবার হ্যাকারদের নিশানায় ইউরোপের সুপারমার্কেটের ফ্রিজার। দূর থেকেই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রবেশ করে ফ্রিজ ও ফ্রিজারের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। এতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বিপুল পরিমাণ মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য ও হিমায়িত খাবার। এ ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে ইউরোপের অন্তত সাতটি দেশে।

গত সোমবার প্রকাশিত বার্ত সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে , ইতালি , পর্তুগাল,বেলজিয়াম, সুইডেন, এস্তোনিয়া, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন সুপারমার্কেটের রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থা এরই মধ্যে শিকার হয়েছে এই অভিনব হামলার । বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের আহোল্ড ডেলহাইজ ও কোলরুইট, সুইডেনে আইসিএ ও কো-অপ এবং আয়ারল্যান্ডে সুপারভ্যালুর একাধিক দোকানে এই হামলা চালায় দুস্বকৃতীকারীরা।

আধুনিক সুপারমার্কেটের ফ্রিজ ও ফ্রিজার পরিচালিত হয় ডিজিটাল কন্ট্রোলার এবং দূরবর্তী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাধ্যমে। এসব সফটওয়্যারের তেমন শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। হ্যাকাররা এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে পরিবর্তন করছে তাপমাত্রা ও স্বয়ংক্রিয় বরফ গলানোর (ডিফ্রস্ট) সেটিংস। ফলে কুলিং ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে ফ্রিজারের তাপমাত্রা।

এটি অবশ্য ইউরোপে প্রথম ঘটনা নয়। গত ১২ অক্টোবর ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটেও হয়েছিল একই ধরনের সাইবার হামলা। সে ঘটনা পরবর্তী রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় ফ্রান্সের অন্তত ৩৫০টি সুপারমার্কেট এ হামলা চালায় হ্যাকাররা। এ হামলায় নষ্ট হয় বিপুল পরিমাণ মাংস ও হিমায়িত খাবার।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো সফটওয়্যার, দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং অনিরাপদ দূরবর্তী সংযোগ এ ধরনের হামলার সুযোগ তৈরি করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা যায়নি।

এখন পর্যন্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি কেউ। যদিও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপে বেড়েছে হাইব্রিড হামলার আশঙ্কা।
অন্যদিকে নাশকতা বা হাইব্রিড যুদ্ধের কোনো অভিযানে জড়িত থাকার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে মস্কো। সোমবারের হামলার পেছনে কারা রয়েছে কিংবা এর সঙ্গে ফ্রান্সের ঘটনাগুলোর কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা এখনো অনিশ্চিত।

বেলজিয়ামের সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের মুখপাত্র ক্যাট্রিয়েন এগার্সের মতে, ‘এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা জানা যায়নি। হয়তো জানা যাবে না কখনোই।’ এ হামলার পেছনে আংশিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারও দায়ী বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় একই কৌশলে ভবিষ্যতে খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল, ওষুধ সংরক্ষণাগার ও খাদ্য উৎপাদন কারখানাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ফলে ঘটনাটি শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং ইউরোপের খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তার জন্যও বড় সতর্কবার্তা।