Image description

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতি আনতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির ওপর বড় ধরনের কর ছাড়ের পরিকল্পনা করছে সরকার।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ইনভার্টার, ফটোসেল ও ব্যাটারিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আমদানিতে নামমাত্র শুল্ক এবং পাঁচ বছরের জন্য ‘ট্যাক্স হলিডে’ (কর অবকাশ) সুবিধা দেওয়া যায় কি না তা ভেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের পোশাক খাতের সাফল্যের পেছনে যেমন আশির দশকের শুরুতে দেওয়া বিশেষ কিছু সুযোগ-সুবিধা কাজ করেছিল, ঠিক একইভাবে সৌরবিদ্যুৎ খাতেও বড় পরিবর্তন আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সোলার ফ্রেম, ফটোকল ও ব্যাটারি; এই তিনটি সরঞ্জামের আমদানিতে শুল্ক-কর কমানোর বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় বর্তমানে কাজ করছে। রাজস্ব আদায়ের আগে বিনিয়োগ প্রয়োজন, তাই প্রথম পাঁচ বছর কর অবকাশ দিলে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন এবং পরবর্তীতে সরকার সেখান থেকে নিয়মিত কর পাবে। পাকিস্তানের সফল মডেলের উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, সরকার প্রয়োজনে সরঞ্জাম আমদানি করে দেবে অথবা বেসরকারি খাতকে শূন্য শুল্কে আমদানির সুযোগ করে দেবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেট সামনে রেখে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের আমদানিকৃত মালামালের শুল্ক পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থী পরিবহনে পরিবেশবান্ধব যান ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ইলেকট্রিক স্কুল বাস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনুরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান কাস্টমস ডিউটি (সিডি), রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি), মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক (এসডি), আগাম কর (এটি) এবং অগ্রিম আয়কর (এআইটি) সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ও কর আরোপ রয়েছে- যা বিনিয়োগে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। প্রচলিত জ্বালানি খাত বিভিন্ন পর্যায়ে ভর্তুকি ও নীতিগত সুবিধা পাচ্ছে, যা একটি নীতিগত বৈষম্য তৈরি করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান। বিভিন্ন খাতে করের চাপ বাড়িয়ে এবং কর ও ভ্যাটের আওতায় বাড়িয়ে, আগামী অর্থবছরে এনবিআর-এর মাধ্যমে সরকার ৬.০৪ লাখ কোটি টাকা আদায় করতে চায় সরকার। আর নন-এনবিআর এবং নন-ট্যাক্স মিলিয়ে রাজস্ব উৎসগুলো থেকে আরও ৯১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য সরকারের।